২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার আনন্দে আর্জেন্টিনার উদযাপনে দেখা গেল ফিফা কর্তৃক নিষিদ্ধ একটি ব্যানার। আটালান্টা স্টেডিয়ামের মাঠে দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয় উদযাপনের সময় খেলোয়াড়রা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন, যাতে লেখা ছিল- ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।’
ম্যাচের আগেই ফিফা একটি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছিল, যেখানে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের ব্যানার বা প্রতীক নিয়ে স্টেডিয়ামে দর্শকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পাশাপাশি আটালান্টা স্টেডিয়ামের ভেতরে উস্কানিমূলক যেকোনো বার্তা ছড়ানোর ওপরেও নিষেধাজ্ঞা ছিল।
প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে- লিওনেল মেসি, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো এবং জুলিয়ানো সিমিওনেরা সেই ব্যানারের পাশে দাঁড়িয়ে উল্লাস করছেন। একপর্যায়ে ব্যানারটি মাঠ থেকে সরিয়ে গ্যালারিতে দর্শকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

১৯৮০-র দশকের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মূল কারণ ছিল মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের (যা ব্রিটিশদের কাছে ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ’ নামে পরিচিত) সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধ। ১৮৩৩ সাল থেকে দ্বীপটি যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা এটিকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছিল। এই যুদ্ধে মোট ৯০৭ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন, ২৫৫ জন ব্রিটিশ এবং ৩ জন দ্বীপের বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।
১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল থেকে ১৪ই জুন পর্যন্ত মোট ৭৪ দিন স্থায়ী হয়েছিল এই মালভিনাস বা ফকল্যান্ড যুদ্ধ। বর্তমানে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ এখনও ব্রিটিশদের হাতেই রয়েছে।





