বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে দেশের পাঁচটি জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ কাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলায় ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৬ কোটি ৭৬ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৬ টাকা।
বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত পাঁচটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলায় ২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম-বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে ১৭৭ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার ১১ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে যৌথভাবে ওয়াহিদ ও আহাদ। এ প্রকল্পের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে আহ্বান করা দরপত্রে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়, যার মধ্যে তিনটি কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়।
সিরাজগঞ্জ জেলায় ২২টি বিদ্যালয়-কাম-বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯১ কোটি ৯১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৪৫ টাকা। এ কাজ বাস্তবায়ন করবে যৌথভাবে ওয়াইসিএল ও ডব্লিউইএল। দরপত্রে অংশ নেওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হিসেবে বিবেচিত হয়।
পাবনা জেলায় ২২টি বিদ্যালয়-কাম-বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে ১৭৯ কোটি ৯৭ লাখ ৩৫ হাজার ২৮ টাকা ব্যয়ে কাজ করবে যৌথভাবে এসসিএল ও এমসিপিএল। এ প্রকল্পের জন্য সাতটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিলেও চারটি প্রতিষ্ঠান কারিগরিভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়।
রাজবাড়ী জেলায় ২১টি বিদ্যালয়-কাম-বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে ১৮৭ কোটি ৮৭ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৩ টাকা ব্যয়ে কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে দি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস লিমিটেড। এ প্রকল্পে পাঁচটি দরপত্র জমা পড়লেও দুটি প্রতিষ্ঠান কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হয়।
অন্যদিকে ফরিদপুর জেলায় সর্বাধিক ৩৫টি বিদ্যালয়-কাম-বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হবে ৩১৯ কোটি ৯৫ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৯ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, ঢাকা। এ কাজের জন্য আহ্বান করা দরপত্রে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়, যার মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হিসেবে বিবেচিত হয়।
কমিটির অনুমোদিত পাঁচটি প্রকল্পের মাধ্যমে বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সময়ে নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এসব বিদ্যালয় স্বাভাবিক সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।







