ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬,৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গৃহশিক্ষিকাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে লুকিয়ে রাখেন ছাত্রীর মা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়া এলাকায় এক গৃহশিক্ষিকাকে হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ওই ছাত্রীর বাবা-মাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের বাটাম, নিহত শিক্ষিকার এক জোড়া কানের দুল এবং নগদ অর্থও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর ১২টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াসিম ফিরোজ।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়ার রুবেল হোসেনের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুমি (২৮), তার স্বামী রুবেল হোসেন (৩৫), শ্বশুর আনোয়ার হোসেন (৫৫) এবং রাজারামপুর মাস্টারপাড়ার শ্রী দিপক সাহা (৩৫)। এদের মধ্যে সুমাইয়া আক্তার সুমি ও দিপক সাহা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দি থেকে জানা যায়, নিহত মরিয়ম বেগম দীর্ঘ ৫ বছর ধরে আসামি সুমাইয়া আক্তার সুমির মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতেন। গত ১৮ মে সকালে তিনি প্রতিদিনের মতো সুমির বাসায় পড়াতে যান এবং ছেলের ল্যাপটপ কেনার জন্য সুমির কাছে কিছু টাকা ধার চান। সুমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মরিয়ম বেগম তার নিজের কানের দুল জোড়া বিক্রি করে টাকা এনে দিতে বলেন। সুমি সেই দুল জোড়া নিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী দিপক সাহার কাছে ১২,০০০ টাকায় বিক্রি করেন এবং সেখান থেকে নিজের ব্যক্তিগত কাজের জন্য ৫,০০০ টাকা খরচ করে ফেলেন।

একই দিন বিকেলে মরিয়ম বেগম পুনরায় সুমির বাড়িতে এসে দুল বিক্রির টাকা দাবি করলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে সুমি ঘরের ভেতরে থাকা একটি কাঠের বাটাম দিয়ে মরিয়ম বেগমের মাথায় ও শরীরে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। মরিয়ম বেগম চিৎকার করতে গেলে সুমি তার মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করেন।

হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর সুমি প্রথমে লাশটি রেক্সিন দিয়ে পেঁচিয়ে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন। পরবর্তী সময়ে লাশটি বের করে দুটি চটের বস্তায় ভরে পাশের লাকড়ি রাখার ঘরের পাশে পুরোনো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন। রাতে সুমি পুরো ঘটনাটি তার স্বামী রুবেল ও শ্বশুর আনোয়ার হোসেনকে জানান।

ওয়াসিম ফিরোজ জানান, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরে স্থানীয়দের থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়া গ্রামের সুমাইয়া আক্তার সুমির বসতবাড়ী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরিয়ম বেগম নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরে একাধিক গুরুতর জখমের চিহ্ন থাকায় ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় ও নিজস্ব সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।