ঢাকা | রবিবার, ৭ জুন ২০২৬,২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় ৫ ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্নাতক পরীক্ষা চলাকালে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের হেনস্তার ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ছাত্রদল। অভিযুক্ত চার নেতার বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও পদ স্থগিতের আদেশের পাশাপাশি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক এক সভাপতিকে শোকজ করা হয়েছে।

জানা যায়, বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন সস্ত্রীক দাপ্তরিক কাজে কলেজে আসেন। ওই সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম ছানা উল্লাহ এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে বসলে বর্তমান সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালায়।

তারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং শিক্ষকদের খাবার খেতে বাধা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এসময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের ওপর আক্রমণ চালিয়ে তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

এই ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রাতেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনের বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় কেন তার বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে শিক্ষকদের ওপর এই হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছে নোয়াখালী সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থার কারণে তারা তাদের কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনবেন কিনা, এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তা জানা যায়নি।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদন করেছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের এই তড়িৎ পদক্ষেপকে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।