তীব্র শিক্ষক সংকটে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অন্তত ১৪টি বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমে টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছে। অল্পসংখ্যক স্থায়ী শিক্ষক ও অন্য বিভাগের ধার করা শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করে চলছে এসব বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম। এতে বিভাগগুলোতে তীব্র সেশনজটের সৃষ্টি হচ্ছে। কিছু বিভাগ সেশনজট কাটিয়ে উঠলেও মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। পাশাপাশি এসব বিভাগের শিক্ষকদের অতিরিক্ত কোর্স পড়ানোর চাপ সামলাতে হচ্ছে। এতে একাডেমিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি শিক্ষকদের। এসকল ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অর্থছাড় না দেওয়ায় বিভিন্ন বিভাগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েও নিয়োগ স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে শিক্ষকের শূণ্যপদ দ্রুত পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ।
জানা যায়, ইবির মোট ৩৬ টি বিভাগের মধ্যে ১৪টি বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। এরমধ্যে চারুকলা বিভাগে ৫ জন, সমাজকল্যাণ বিভাগে ৪ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ৩ জন, ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগে ৪ জন, ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ৪ জন, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ৪ জন, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ৫ জন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে ২ জন, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৪ জন, ফার্মেসি বিভাগে ৬ জন, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগে ২ জন, মার্কেটিং বিভাগে ৫ জন এবং জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগে ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। প্রতিটি বিভাগে ৬-৭টি ব্যাচ অধ্যয়নরত থাকায় বিভাগীয় কার্যক্রম সচল রাখতে বাধ্য হয়ে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকদের ধার নিতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানালেও কার্যত কোনো সুরাহা মেলেনি। এদিকে বিভাগীয় সভাপতিদের অভিযোগ, প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব ও অব্যবস্থাপনায় এ সংকট নিরসন হচ্ছে না। এদিকে চারুকলা বিভাগের ৬টি ব্যাচের ১৭টি ডিসিপ্লিনের একাডেমিক কার্যক্রম চালাতে মাত্র ৫ জন শিক্ষক থাকায় নতুন নিয়োগের দাবিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর মানববন্ধন করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাতটি বিভাগে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষকরা।
রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষক সংকট নিরসনে ধর্মতত্ত্ব, বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ২১টি বিভাগে মোট ৫৯টি শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে আবেদন করেন প্রার্থীরা। তবে এসব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইউজিসির অর্থছাড়ের পূর্বানুমতি না নেওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে। পরে ইউজিসি শিক্ষক সংকট বিবেচনায় ছয়টি বিভাগে মাত্র ছয়টি পদে অর্থছাড় অনুমোদন দিলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৮০ জন শিক্ষকের প্রয়োজন থাকলেও মাত্র ৪০৫ জন শিক্ষক আছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)। যা অ্যাক্রিডিটেশনের শর্তের চেয়ে অনেক কম বলে জানা যায়। আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দিন বলেন, ইবির বিভিন্ন বিভাগে মাত্র দুই-তিনজন শিক্ষক অনেকগুলো কোর্স পড়াচ্ছেন। এটি ইউজিসির ক্লাস লোড পলিসির পরিপন্থি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগের জন্য অ্যাক্রিডিটেশনের ন্যূনতম শর্ত পূরণ করতে যেখানে ১ হাজার ৮০ জন শিক্ষক প্রয়োজন, সেখানে বর্তমানে শিক্ষক আছেন মাত্র ৪০৫ জন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ইউজিসির অর্থছাড় অনুমোদন পাওয়া যাবে ভেবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও পরবর্তীতে কেবল ৬টি পদের অনুমোদন মেলে। অনুমোদন পেতে আমরা অলরেডি ইউজিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। অতিদ্রুত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে তিনি আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।
ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, কিছুদিনের মধ্যে আমরা শিক্ষকদের শূণ্য পদ পূরণের বিষয়ে মিটিং করবো। সেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যতটুকু করা যায় করবো। এই পরিকল্পনা নিয়ে আমরা একটা টিম কাজ করছি।






