বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কোনো ছাত্র অথবা ছাত্রী সজ্ঞানে শিবিরকে ভোট দিতে পারে তা আমি কখনোই বিশ্বাস করি না।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে ঢাবির সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রসঙ্গ টেনে সোহেল বলেন, বিগত সংসদের ভিপি ও এজিএসদের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের নেতাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরের বক্তব্য ও গণমাধ্যমে তার উপস্থাপনা তাকে মুগ্ধ করেছে। নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়ার পর নাসিরের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের আন্দোলনের সময় সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা রাকিব ও নাসিরকে সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন সারা দেশের মনোযোগ তাদের দিকে ছিল।
সোহেল বলেন, ৭ নভেম্বর একটি চেতনা ও প্রেরণার নাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লড়াইয়ের যে ঐতিহ্য, তার সঙ্গে এ দিনের চেতনার মিল রয়েছে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র টিএসসিতে দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজনকে যথার্থ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার জন্য জীবন দেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা এমন একটি দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে অন্যায়, অত্যাচার ও নির্যাতন থাকবে না। মানুষ দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তি পাবে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে, কথা বলার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকবে এবং বিশ্বে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
স্বাধীনতার পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন সোহেল। তিনি বলেন, যুদ্ধের পর দেশে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের চিত্র দেখা গেছে। নিজের শৈশবের একটি স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বগুড়ায় নানাবাড়ি যাওয়ার পথে এক মুক্তিযোদ্ধার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে থাকা মরদেহ তিনি দেখেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য মানুষ এভাবে প্রাণ দিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর দেশের মানুষ যখন ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষে কষ্ট পাচ্ছিল, তখন শাসকগোষ্ঠীর জীবনযাপনে বৈপরীত্য ছিল।
সোহেলের দাবি, মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতাকারী একটি দেশ স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে নিজেদের ওপর নির্ভরশীল ও মেরুদণ্ডহীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়া দেশের নিজস্ব শক্তি ও স্বকীয়তা থাকা প্রয়োজন। ৭ নভেম্বরকে তিনি বাংলাদেশের নিজস্ব শক্তি প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, গত ১৭ বছর বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে অন্য একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়েছিল। ঐ সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর এবং শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার বিষয় নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আরেকটি পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই পরিবর্তন এসেছে। এ সময় তারেক রহমানকে নতুন নেতৃত্বের আলোকবর্তিকা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।





