ঢাকা | বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

অবিবাহিত হওয়ায় ৩ তরুণীকে নেপাল যেতে বাধা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা/এন্ট্রি পারমিশন ও বিমান টিকিট থাকার পরও প্রাপ্তবয়স্ক তিন নারীকে বিদেশযাত্রায় বাধা দেয়ার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত এ বিষয়ে রুল জারি করার পাশাপাশি পুলিশের এডিশনাল আইজিপিকে আবেদনকারীদের অভিযোগ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পরবর্তী বিদেশযাত্রায় আবেদনকারীদের বাধা না দিতেও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তিন নারীর করা এক রিট শুনানি শেষে বিচারপতি কামরুল কাদের এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল ও অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনা দেন।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজিলা রহমান জুই।

আদালত রুলে জানতে চেয়েছেন, আবেদনকারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেয়ার কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বৈধ বিদেশযাত্রায় কেবল অবিবাহিত হওয়া, অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ বা অনুরূপ লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় বাধা না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নির্দেশনা প্রণয়ন ও জারির নির্দেশ কেন দেয়া হবে না।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের আইজিপি, এডিশনাল আইজিপি, পুলিশ সদর দপ্তর ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে অভিযোগ করা হয়, আবেদনকারীদের বিদেশযাত্রায় কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা ছিল না। প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তাদের বিমানবন্দর থেকে যেতে দেয়া হয়নি।

আবেদনকারীদের বক্তব্য, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী অবিবাহিত কি না, বাবা-মা বা অভিভাবক সঙ্গে আছেন কি না— এসব কোনো নাগরিকের বৈধ বিদেশযাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্বতন্ত্র আইনগত ভিত্তি হতে পারে না।

রিটে বলা হয়, এ ধরনের আচরণ সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের সমতা ও লিঙ্গ বৈষম্যবিরোধী নিশ্চয়তা, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের আইনের আশ্রয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ৩৬ অনুচ্ছেদের চলাফেরার স্বাধীনতার ওপর প্রশ্ন উত্থাপন করে।