ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

মদিনায় বিপুল ইউরেনিয়ামসহ ১১ কোটি টন খনিজ ভাণ্ডারের সন্ধান পেল সৌদি

সৌদি আরবের মদিনায় ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য বিরল খনিজসমৃদ্ধ প্রায় ১১ কোটি টন আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। মদিনার জাবাল সাইয়িদ এলাকায় অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় এসব আকরিকের সন্ধান পাওয়া যায়। এসব আকরিকে বিশেষ করে ভারী বিরল খনিজের ঘনত্ব বেশি এবং আশাব্যঞ্জক মাত্রায় ইউরেনিয়ামও রয়েছে।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, সৌদির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমানের বরাতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। ‘আরব নিউজ’ বিন সালমানের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মদিনার জাবাল সাইয়িদ প্রকল্প এলাকায় অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় সন্ধান পাওয়া প্রায় ১১ কোটি টন আকরিকে বিরল খনিজের ঘনত্ব বেশি, বিশেষ করে ভারী মৌলগুলোর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।

এদিকে ইউরেনিয়াম পাওয়ার এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কার্যত জড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরব। মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সময়ে ইয়েমেনে আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠা হুথি মিলিশিয়ারা সৌদি আরবের লোহিত সাগরমুখী সমুদ্রপথ কার্যত আরও সংকুচিত করে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা থেকে। তাদের দাবি, ইরানের এই কর্মসূচি গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছিল। তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য।

সংবাদমাধ্যম বলছে, আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের বহুমুখীকরণে বিনিয়োগ করে আসছে। দেশটি ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় জ্বালানি খাতকে বহুমুখী করার অংশ হিসেবে দেশে ইউরেনিয়াম উত্তোলন এবং বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও নিয়েছে।

আর এর মধ্যেই ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক আকরিকের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর আগে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নে চুক্তি করেছে। গত জুলাইয়ে দুই দেশ একটি দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি এই চুক্তিতে সই করে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ‘কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বের’ ভিত্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়।

চুক্তির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি উন্নয়নে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এতে সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের তদারকি ছাড়াই নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।