১২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবদাহের মুখোমুখি দক্ষিণ কোরিয়া। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, মাটির নিচে থাকা কাঁচা আলু ক্ষেতেই গলে নরম হয়ে একেবারে ‘সেদ্ধ’ আলুর মতো হয়ে গেছে। ১৯০৪ সালের পর দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার এই রেকর্ড কেবল ফসলেরই ক্ষতি করেনি, কেড়ে নিয়েছে বহু মানুষের প্রাণ। খবর গার্ডিয়ানের।
দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংসানে তাপমাত্রা ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা ১৯০৪ সালের পর দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
দেশটির রাজধানী সিউল থেকে ১৩০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বাঞ্চলের গাংওন প্রদেশের ইয়াঙ্গু কাউন্টির কৃষকরা জানিয়েছেন, তীব্র গরমে আলুক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। মাটির নিচে থাকা আলুগুলো এতটাই নরম ও ভেঙে যাচ্ছে যে সেগুলো দেখতে হুবহু সেদ্ধ বা চটকানো আলুর মতো মনে হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এসবিএসকে এ কৃষক বলেছেন, ‘এটি শুধুমাত্র একটি বা দুটি খেতে নয়। আমি কীভাবে ভাষায় প্রকাশ করব! আমার জন্য এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।’
অন্যদিকে দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মতে, এই তাপপ্রবাহের কারণে দেশব্যাপী অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ৯ লাখেরও বেশি গবাদি পশু ও বিভিন্ন খামারের ১৪ লাখ চাষের মাছ মারা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশাসন নাগরিকদের জন্য হিট ওয়ার্নিং বা তাপ সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে সব ধরনের আউটডোর বা বাইরের কাজকর্ম অবিলম্বে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি জে-মিয়ুং এই পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘দেশবাসী এমন বৈরী আবহাওয়া আগে কখনো দেখেনি।’





