ঢাকা | রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দিকে নেওয়া হচ্ছে: পরওয়ার

প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে কিছু লোক বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সংস্কার বাস্তবায়নই ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানোর একমাত্র পথ।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালীতে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত আয়োজিত বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কলেরা হাসপাতালের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সুবিধাভোগী হলেও বিএনপি এখন সেই অভ্যুত্থানের চেতনা থেকে সরে এসেছে। নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তারা তা ভুলে গেছে। তিনি দাবি করেন, জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। তবে বর্তমানে সেই অঙ্গীকার থেকে তারা সরে এসেছে।

বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আইন সংশোধনের মাধ্যমে ‘রিফর্ম আওয়ামী লীগ’ নামে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনরা জুলাইয়ের চেতনাকে ভুলে গেছে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় লোকজন নিয়োগ দিচ্ছে।

জামায়াতকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে করা মন্তব্যের প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত কখনো গুপ্ত ছিল না। যারা বিভিন্ন আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততার কথা বলেন, তাদের বক্তব্য জনগণ বিবেচনা করবে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিলেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে। তবে সেই সিদ্ধান্তই আওয়ামী লীগের বিদায়ের সূচনা হয়ে দাঁড়ায় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মাঠে ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বপন্থীদের বিজয় হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন আরো বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে নিতে হবে। প্রয়োজনে জীবন বাজি রেখেও ভোট রক্ষায় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান ও ডা.ফখরুদ্দিন মানিকের পরিচালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি মেজর (অব.)আখতারুজামান, মুফতি আলী হাসান উসামা, ড. ফয়জুল হক প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, জামাল উদ্দিন ও নাসির উদ্দীনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সমাবেশ শেষে মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে থেকে একটি গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি তেজগাঁও তিব্বত মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।