শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমি মাঝে মধ্যে দেখি অনেক গুণীজন যেসব মন্তব্য করেন। সেগুলো বিভ্রান্তিকর। ভাবতে ইচ্ছে হয় আসলে বাংলাদেশে এতো বেশি পিএইচডি হয়েছে যে সেগুলো খতিয়ে দেখতে হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ হবে এডুকেশনাল হাব। এই দেশে সব দেশের শিক্ষার্থীরা পড়তে আসবে। সেই আদলে আমরা ইউনিভার্সিটি বানাচ্ছি। আমরা জানি এ দেশের ছাত্ররা মেধাবী। যে যত অপমানই করেন না কেনো, যত ট্রলই করেন না কেনো আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করতে পারবেন না।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন করতেই হবে। লেখাপড়া আমাদের করতেই হবে। আমি মাঝে মধ্যে দেখি অনেক গুণীজন যেসব মন্তব্য করেন। সেগুলো বিভ্রান্তিকর। ভাবতে ইচ্ছে হয় আসলে বাংলাদেশে এতো বেশি পিএইচডি হয়েছে যে সেগুলো খতিয়ে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, যে যত অপমানই করেন না কেনো, যত ট্রলই করেন না কেনো আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করতে পারবেন না।
আমার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ন্যারেটিভ শুরু হলো, এই ন্যারেটিভ তারা নেগেটিভভাবে নিয়ে গেলো। জাতি যদি এভাবে অর্ধকানা হয়ে যায় তাহলে তো আমাদের ভবিষ্যত ভালো হবে না। কীভাবে শুরু হলো ট্রল। এই ট্রল যারা করছে তারা কেউ পরীক্ষার্থী না। ঢাকার আইডিয়াল কলেজ, ভিকারুননিসা আমি তো কাউকে দেখিনা আন্দোলন করতে। না এরা কেউ আন্দোলন করতে আসেনি। এভাবে আন্দোলন করে, মিস গাইডেট করে কি একটা হেমক সৃষ্টি করলো।
আমি মিডিয়া ভাইদের বলছি, আজকে ভূগোল দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা হয়েছে। বলা হলো, প্রশ্ন আউট হয়েছে। কই পরীক্ষা তো শেষ হয়েছে কোথাও কি প্রশ্ন আউট হয়েছে? পেয়েছেন? এই মিডিয়া মিস ইন্টারপ্রিটেশন করে, এখন মনে হচ্ছে যেনো নকল হচ্ছে, প্রশ্ন বের হচ্ছে- এগুলো না হলেও বানিয়ে বানিয়ে বলতে হবে? কীভাবে উন্নয়ন করবো। বাট সত্যি বলছি আমরা এসেছি এ জাতিকে সুশিক্ষিত করার জন্য।
ড. মিলন বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে আমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছি। এবার তারই জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের আন্ডারে আমি দায়িত্ব পালন করছি। কী করে আপনারা ভাবতে পারেন যে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে আমাকে নির্দেশ দেয়া হবে? নিশ্চয়ই না। আপনারা আপনাদের অবস্থানে কঠিন থাকুন, লেখাপড়ার মান আমাদের উন্নয়ন করতেই হবে।
কিছু কিছু লোক সুন্দর সুন্দর পোস্ট দেয়। প্রিয় শিক্ষার্থীরা এটা তোমাদের জীবনের চ্যালেঞ্জ। এই বাংলাদেশ হবে এডুকেশনাল হাব। এই দেশে সব দেশের লোকজন পড়তে আসবে। সেই আদলে আমরা ইউনিভার্সিটি বানাচ্ছি। আমরা জানি এ দেশের ছাত্ররা মেধাবী।
তিনি বলেন, এখানে ইউজিসির চেয়ারম্যান ও মেম্বার রয়েছেন। আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরা আমার সঙ্গে পড়তেন। তখন ইন্টারন্যাশনাল হোস্টেল করে দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ছাত্রদলের প্রথম কমিটিতে আমি ছিলাম। ২১ জন ছিলেন, প্রথমজন ছিলেন গোলাম সরোয়ার মিলন আর ২১ নম্বরে ছিলাম আমি। দুইজনই কার্জন হলের। সেই সময়ে আমরা দেখেছি আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা মালয়েশিয়ায় পড়তে গেছে। আমরা কোনো পারবো না আমাদের দেশকে ইন্টারন্যাশনার এডুকেশন হাব করতে?
মন্ত্রী আরো বলেন, আমি আবারো বলছি, গ্লোবললি বাংলাদেশের জনগণ বাড়ছে এবং বাংলাদেশের জনগণ সবাই এডুকেশনে ইনভেস্টমেন্ট করছে। আমরা হয়তো এই পৃথিবীতে থাকবো না, আজ থেকে ১০-১৫ বছর পরে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাখাতকে যে আপডেট করার জন্য কাজ করছে সেটাই পৃথিবীতে বাংলাদেশ হবে এক নম্বর সেন্ট্রাল এডুকেশন হাব। পৃথিবীব সবাই পড়াশোনার জন্য এদেশে আসবে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ব্রেইন ড্রেইনে বিশ্বাস করেননি তিনি শিক্ষকদের পাঠিয়েছেন ও ফেরত নিয়েছেন। আমাদের বাংলাদেশে আজকে রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন করতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই ব্যবস্থাটি করেছিলেন। যারা বাইরের প্রফেসর ছিলেন তাদের জন্য ইন্টারন্যাশনাল হল করেছিলেন। বলেছিলেন, আপনাদের যখন সেমিস্টার গ্যাপ থাকবে তখন বাংলাদেশে আসবেন। এ দেশের ছেলে-মেয়েদের পড়াবেন।
ড. মিলন বলেন, মাদরাসা শিক্ষার্থীরা মাইগ্রেড হচ্ছে বেশি। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় আমি একক প্রশ্ন করেছি। নয়টি বোর্ড একক প্রশ্ন করেছে। কিন্তু টেকনিক্যাল ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে আমি একক প্রশ্ন করতে পারিনি। এখানে দেখা যায় আমরা সৃজনশীল প্রশ্ন করি কিন্তু ক্রিয়েটিভ প্রশ্নের উত্তরকে আমরা নন ক্রিয়েটিভ করে ফেলি। আমি বলছিলাম ফিজিক্স প্রশ্ন কঠিন হয়েছে এবং দুইটি প্রশ্ন ভুল হয়েছে। তবে এমন কোনো ভুল হয়নি বাট সবাই বলছে। ইন দিস কেস আমি বললাম কোশ্চেন যারা তৈরি করেন মডারেট করেন তাদের দুই বছর ধরে ট্রেনিং দিতে হয়। দেয়ার পর তাদের তৈরি করে কোশ্চেন করতে পাঠানো হয়। আমরা তো দুই বছরের জন্য নতুন মডারেটর করিনি আমরা করবো। এটা নিয়ে ট্রল শুরু হলো। আমি বলেছি দুই বছর লাগে ট্রেনিং করেছে।
তিনি আরো বলেন, আমি যখন সকাল নয়টায় দেখলাম কুমিল্লা কলেজে বন্যার পানিতে ভেসে যাচ্ছে তখনই আমি বোর্ডকে বললাম ওখানে যান পরীক্ষা একঘণ্টা পিছিয়ে দেবেন এবং আধাঘণ্টা বেশি টাইম দেবেন। পরীক্ষা বন্ধ করার দায়িত্ব ওই এলাকার অথরিটির কিন্তু তারা করেনি। এই একটি সেন্টারে পানি হয়েছে দ্বিতীয় কোনো সেন্টার দেখাতে পারবেন না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীসহ নওগাঁর ৬টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।






