ঢাকা | রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

‘বিপ্লবের উত্তরাধিকারদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর দুরভিসন্ধিতে বিভ্রান্ত হবেন না’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেছেন, বিপ্লবের উত্তরাধিকারকে নানা রকম অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। ৫২, ৬৯, ৭১, ৯০ এবং ২৪-এর মধ্যে একটি স্পষ্ট পরম্পরা ও ধারাবাহিকতা রয়েছে। তিনি বলেন, এর কাউকেই কারো মুখোমুখি দাঁড় করানোর দুরভিসন্ধি ও উস্কানি যেন আমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে।

রোববার (১৯ জুলাই) ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘২য় জুলাই বিপ্লব আন্তর্জাতিক সম্মেলন (আইসিজেআর-II ২০২৬)’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড থটস (আরআইটি), ইউনিভার্সিটি অফ রেজিনা (কানাডা), নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (সিঙ্গাপুর) এবং ইয়ুথ ফর বেটার ফিউচার সোসাইটি (ওয়াইবিএফ)-এর যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, এখনো সম্ভাবনা আছে তত্ত্বাবধার ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনার, সম্ভাবনা আছে একটি শক্তিশালী বিচার বিভাগ গড়ে ওঠার। এত বড় বিপর্যয়ের পরও অর্থনীতি টিকে আছে। ১৮ কোটি মানুষের ভার এই অর্থনীতি বহন করছে। সুতরাং কিছুই হয়নি। সব ভেস্তে গেল, জ্বলে গেল- এই প্রোপাগান্ডায় আমাদের বিভ্রান্ত হওয়া চলবে না। কঠিন পথ সামনে আছে। আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাই আমাদেরকে তিনটি জিনিস শিখিয়েছে। একটি হচ্ছে আত্মপরিচয় আবার মনে করিয়ে দেয়া যে, এক সময় আমাদের মেরুদণ্ড ছিল, একসময় বাঙালি ছিলাম। এখনো নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বড় মাপের কিছু কাজ করা সম্ভব, সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। সবশেষ সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ, জুলাই আমাদেরকে এক জায়গায় করেছে। ভয়ানকভাবে বিভক্ত-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া জনগোষ্ঠী আমরা একসাথে হয়েছিলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুলাইয়ের প্রাণকেন্দ্র ছিল উল্লেখ করে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বরেন, আমাদের সঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষক-শ্রমিক, গ্রামবাসী সবাই একসাথে যোগ দিয়েছিলেন। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয় মাদরাসাসহ প্রত্যেক পর্যায় থেকে ছাত্রদের যে বিশাল জনগোষ্ঠী মাঠে নেমে এসেছিল। আমরা সবাই একসাথে হয়েছিলাম, আমাদের অস্তিত্বের জন্যই যে কোন মূল্যে বিভক্তি ঠেকানো প্রয়োজন। আমরা হয়তো বলি জুলাই আমাদেরকে কি দিয়েছিল? যদি উল্টো করে জিজ্ঞেস করেন, জুলাইকে আমরা কি দিতে পারি?