শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণিতে কাঁচা ছিল। তারা মাদ্রাসায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিলেও সেই অনুযায়ী বাজেটে কোনো বরাদ্দ রাখেনি। এছাড়া প্রাথমিকের প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নেই। আগামী জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।
রোববার সকালে সিলেট নগরীর মেন্দিবাগ এলাকায় জালালাবাদ গ্যাস ভবনের অডিটোরিয়ামে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেউ যদি প্রশ্নফাঁস নিয়ে গুজব বা বিভ্রান্তি ছড়ায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ লক্ষ্যে সাইবার আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন এবং সব কেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় থাকবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে পরীক্ষায় নকলের প্রবণতা নেই বললেই চলে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ, নমুনা উত্তরপত্র পর্যালোচনা, পরীক্ষকদের মূল্যায়ন এবং অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সামান্য বিষয়েও মামলা হচ্ছে। ধাপে ধাপে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে। শিক্ষা খাতে কোনো মামলার জট রাখতে চায় না সরকার। ২০১৭ সাল থেকে বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রয়েছে। আদালতের রায়ের আলোকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ৩০ হাজারের বেশি মামলাও পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন করে নিয়মিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্ব শুধু পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানেও আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, শিক্ষা বোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্রপ্রধান এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।





