সরকারি চাকুরেদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে কার্যকর হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং আগামী ১ জুলাই থেকেই ধাপে ধাপে এর কার্যক্রম শুরু হতে পারে। তবে পুরো কাঠামো একসঙ্গে নয়, বরং তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম দুই অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করে কার্যকর করা হবে এবং তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা সমন্বয় করা হবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতির ইঙ্গিত মিলেছে বলেও জানা গেছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত থাকবে। সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। অর্থাৎ পুরো কাঠামোয় ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোতে পেনশন সুবিধাতেও বড় পরিবর্তনের সুপারিশ এসেছে। ২০ হাজার টাকার কম পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি, ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ৭৫ শতাংশ এবং এর বেশি পেনশনে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বয়স্ক পেনশনভোগীদের জন্য আলাদা ভাতা প্রবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ৭৫ বছরের বেশি বয়সীরা ১০ হাজার টাকা, ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীরা ৮ হাজার টাকা এবং এর কম বয়সীরা ৫ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত চিকিৎসা ভাতা পেতে পারেন।
কমিশনের সুপারিশে বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। যাতায়াত ভাতা ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আগামী বাজেটে উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হতে পারে। প্রাথমিক হিসেবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রথম পর্যায়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার বাড়তি ব্যয় হবে।
অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধির এই সুপারিশকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধীরে বাস্তবায়নের পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেট সক্ষমতা ও রাজস্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে বেতন কমিশন সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দেয়, সেখানে বলা হয়, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে ব্যয় হচ্ছে এক লাখ কোটি টাকার বেশি। নতুন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
সব মিলিয়ে নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যেমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তেমনি অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সরকারের ভেতরে চলছে চূড়ান্ত পর্যায়ের হিসাব-নিকাশ। আগামী ২১ মের বৈঠকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।






