ঢাকা | সোমবার, ১১ মে ২০২৬,২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

যখন-তখন ওষুধের দাম বাড়ানো যাবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ওষুধের দাম নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, শিল্পের স্বার্থ রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি যখন-তখন ওষুধের দাম বাড়িয়ে জনগণ ও সরকারকে বিপদে ফেলা যাবে না।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর এক হোটেলে বেসরকারি খাতের সাথে অংশীজন পরামর্শ সভায় ‘স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

ওষুধের দাম নির্ধারণের বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো অবশ্যই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, তাদের মুনাফার প্রয়োজন আছে। অন্য সব কিছুর দাম বাড়লেও ওষুধের দাম বছরের পর বছর আটকে রাখা যেমন সঠিক নয়, তেমনি আমরা এমন কোনো নীতিমালাও চাই না যার ফলে যখন খুশি ওষুধের দাম বাড়িয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, আমরা মাত্র দুই-আড়াই মাস হলো সরকার গঠন করেছি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা দেখেছি স্বাস্থ্য খাতের সব জায়গায় একটি ভগ্নদশা বিরাজ করছে।

দেশের হাসপাতালগুলোর বেহাল চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিগত ৫-৭ বছর ধরে অনেক হাসপাতালের ন্যূনতম মেইনটেন্যান্স হয়নি। কোথাও বিল্ডিং আছে তো যন্ত্রপাতি নেই, কোথাও আবার ওষুধের সংকট। এই বিশাল চ্যালেঞ্জের মধ্যেই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতি, যা আমাদের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক সরকার। জনগণের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। আমরা চাই মানুষকে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নিশ্চিত করতে। আপনাদের সমস্যাগুলো আমরা বুঝি এবং সেগুলো দ্রুত ফয়সালা করতে চাই। যদি আমরা সম্মিলিতভাবে সমাধান না করি, তবে ইন্ডাস্ট্রি ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল এটিএম ইসলামসহ বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।