ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬,৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

২৭ ঘণ্টার ভোগান্তির পর সবার আগে পানির ব্যবস্থা করল কুবির ফয়জুন্নেছা হল প্রশাসন

দীর্ঘ ২৭ ঘণ্টা কুবিতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানি সংকটের ভোগান্তির পর অবশেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল প্রশাসন পানির ব্যবস্থা করেছে। তিনটি ছেলেদের হল ও দুইটি মেয়েদের হলের মধ্যে সবার আগে ফয়জুন্নেসা হল প্রশাসন নারী শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে এই উদ্যোগ নিয়েছে।

পানির সংকটের কারণে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। রান্না, গোসল, নামাজের অজু ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

জানা যায়, রবিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ছয়টায় কালবৈশাখীর ঝড়ে ক্যাম্পাসের পাশে শালবন বিহার সংলগ্ন তিনটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে যায়, ২৭ ঘন্টা পেরোলেও (রাত সাড়ে নয়টা) বিদ্যুৎ সচল হয়নি ক্যাম্পাস এবং তার আশপাশের এরিয়াতে।

পরবর্তীতে প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর হল প্রশাসন জেনারেটর ব্যবস্থার মাধ্যমে পানির সরবরাহ নিশ্চিত করে। এতে সাময়িকভাবে সংকট কাটে।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেরিনা ইয়াসমিন তিশা (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) বলেন, “হঠাৎ করে পানির সংকট তৈরি হওয়ায় আমাদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। দীর্ঘ সময় মৌলিক সুবিধা না থাকায় দৈনন্দিন কাজগুলো ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসন পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে, হল প্রভোস্টকে অসংখ্য ধন্যবাদ নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।”

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী তামকিন জাহান সূচি (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) বলেন, “দীর্ঘ সময় পানি না থাকায় আমাদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে আবাসিক হলে দৈনন্দিন কাজ, নামাজের অজু ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনগুলো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি আর না হয়, সে বিষয়ে স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”

চৌধুরানী হলের হল প্রভোস্ট সুমাইয়া আফরি সানি বলেন, “আমরা হল প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পানির সংকটের বিষয়টি জানার পর আজ সন্ধ্যা থেকেই চেষ্টা করছিলাম দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করার। যাতে আবাসিক শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত দুর্ভোগে না পড়ে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”