ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ঢাবিসাস) সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার প্রতিবাদে ও জড়িতদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (হাবিপ্রবিসাস)। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রবিবার (২৬শে এপ্রিল) বিকেল ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
হাবিপ্রবিসাসের সভাপতি তালহা হাসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রাফিউল হুদা’র সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন হাবিপ্রবিসাসের সদ্য সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি গোলাম ফাহিমুল্লাহ, ৭ম কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি হায়দার আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার স্বর্ণব, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান, দপ্তর সম্পাদক আরাফাত ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এসময় সদ্য সাবেক সভাপতি গোলাম ফাহিমু্ল্লাহ বলেন ,“ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানে মানবাধিকার ও মুক্ত বাকস্বাধীনতার ওপর হামলা। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত হবে। আমরা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে দাবি জানাই, তারা যেন ঢাবিসাসসহ বিভিন্ন সময়ে হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ায় এবং অন্যায়কারীদের শাস্তি প্রদান করে।”
হাবিপ্রবিসাসের সভাপতি তালহা হাসান বলেন, “ছাত্রদলের একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগের পর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তাদের ভূমিকা এখন প্রশ্নের মুখে। আমরা আশা করি তারা দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
হাবিপ্রবিসাসের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাফিউল হুদা বলেন,“সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তারা সব সময় সত্য তুলে ধরা চেষ্টা করেন। তাদের ওপর হামলা মানে সত্যকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা। আমরা সাংবাদিকরা আপনাদের শত্রু না, আমরা আপনাদের বন্ধু। আপনাদের ভালো কাজগুলো আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করি। আর খারাপ কাজগুলোও তুলে ধরার চেষ্টা করি কারণ আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।”
তিনি আরো বলেন, আপনারা বৃহৎ সংগঠন।আপনাদের ভুলগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে আপনাদেরকে সংশোধন করার সুযোগ করে দেয় সাংবাদিকরা। কিন্তু তাদের ওপর এই হামলা উদ্বেগের বিষয়। আমরা আশা করছি হামলার সাথে জড়িতদের আপনারা শনাক্ত করে দ্রুততার সাথে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।”
উল্লেখ্য, বিগত ২২ ও ২৩ শে এপ্রিল শাহবাগ থানা এলাকায় ভূয়া স্কিনশটকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই ভিডিও করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ১৬ জন সাংবাদিক ছাত্রদলের হামলার শিকার হন।





