রাজধানীর শাহবাগ থানায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
নাছির লিখেন, ‘গতকাল একটি কুরুচিপূর্ণ ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন শাহবাগ থানায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্য ও গুপ্ত শিবিরের নেতাকর্মীদের সৃষ্টিকৃত মব এবং ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরে
তিনি আরও লিখেন, ‘এ ঘটনার জন্য আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ছাত্রদল সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সাংবাদিক সমিতির ভূমিকা ছিল অসামান্য।’
ভবিষ্যতে আর কোনো সাংবাদিক যাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হয়, সেই প্রত্যাশা করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স’ (এআই) দিয়ে তৈরি একটি আপত্তিকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগ ওঠে ছাত্রশিবির নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে। তিনি ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের প্যানেলের সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও শাহবাগে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। জাইমা রহমানকে কটূক্তির অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলা করতে যান তারা।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ছাত্রশিবির নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দাবি করেন, তার নামে ভুয়া স্ক্রিনশট ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে তিনি ও তার সহযোগীরা থানায় যান।
থানায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার একপর্যায়ে থানার ভেতর ঢুকে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিকের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া ডাকসুর আরেক নেতা এ বি জুবায়ের থানার ভেতরে আটকা পড়েন বলেও অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় আহত ডাকসুর দুই নেতা ও সাংবাদিকসহ ১১জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।






