ঢাকা | মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬,৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ইবিতে খালেদা জিয়ার ছবি অবমাননার অভিযোগ, প্রথম ব্যানার ছেঁড়ে ছাত্রদল কর্মী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকা সংবলিত ব্যানার ছিড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে একযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিএনপিপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তারা। নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয় বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদ ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)। এছাড়া ফেসবুকে নিন্দা জানায় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এদিকে এ ঘটনার প্রকাশিত এক ভিডিওতে শাখা ছাত্রদলের কর্মীকেই প্রথমে ব্যানার ছিঁড়তে দেখা যায়।

জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে প্রশাসন ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছিল বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। এসময় কিছু শিক্ষার্থী কর্তৃক ভবনের সামনে ঝুলানো খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ছবি সম্বলিত ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনা ঘটে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা দাবি করেন। বিক্ষোভকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসন ভবনের ভিতরে থাকা এক কর্মচারী বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ ও বিভিন্ন বিদ্রুপ মন্তব্য করেছিলেন। তবে ভবনের গেইটে ব্যানার লাগানো থাকায় বাইরে থেকে ওই কর্মচারীকে দেখা যাচ্ছিলো না। তখন শিক্ষার্থীরা ওই কর্মচারীকে দেখতে না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে সামনে থাকা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। এ ঘটনায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে সমাজকল্যাণ পরিবারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন তারা।

ঘটনার ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভাগটির ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদল কর্মী তানভীর আহমেদ সতেজ প্রথমে সেখানে থাকা একটি ব্যানার ছিঁড়েন। এসময় তার সঙ্গে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের আফ্রিদি হাসানও ব্যানার ছেঁড়েন। পরে সেখানকার আরও কয়েকটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন অন্য শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে ছাত্রদল কর্মী তানভীর আহমেদ সতেজ বলেন, ব্যানার ছেঁড়া একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত ছিলো। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ছিল। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি, আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। আর সতেজ আমাদের পরিচিত, সে আমাদের প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকতো।

এদিকে ঘটনা তদন্তে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস শাহীদ মিয়াকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক বলেন, আমরা যাচাই-বাছাই করে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবো।