ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬,৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইবি শিক্ষিকা খুন: বিচার দাবিতে কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ ও এসপি কার্যালয় ঘেরাও


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীসহ নিহতের পরিবার। এসময় অভিযুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেইটে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। পরে কুষ্টিয়া মহাসড়ক এক ঘন্টা অবরোধ করার পর পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এসময় নিহত রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও তার সন্তানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে তারা বলেন, আসামি বিশ্বজিত ও শ্যাম সুন্দর হাইকোর্টে ঘুরাঘুরি করলেও প্রশাসন তাদেরকে আজ পর্যন্ত গ্রেফতার করছে না। তার অবুঝ বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়েও তো প্রশাসনের উচিত ছিল এতদিনে তাদেরকে গ্রেফতার করা। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ লেভেলের শিক্ষকের যদি নিরাপত্তা না থাকে সেখানে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা কোথায়? এখানে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনে গাড়ি আটকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘুমাচ্ছে। তাদের এসব কোনো চিন্তাই নেই।

নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, আমার স্ত্রী মৃত্যুর পূর্বে যে ষড়যন্ত্রের শিকার ছিলেন মৃত্যুর পরেও সেই ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়ন চলছে। প্রশাসন এই ফজলুকে দিয়ে একক সিদ্ধান্তের একটি নীল নকশা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে। এছ্ড়াা বিশ্বজিত ও শ্যাম সুন্দরসহ যাদের বিরুদ্ধে আমার বিভাগের অর্থ তছরূপের লিখিত অভিযোগ আছে তাদের ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

পরে পরিবার ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিয়ে প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শওকত মো. হাসান ইমামের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে সোহান বলেন, ম্যামের হত্যার এক মাস পরও আসামি গ্রেফতার না হওয়ার বিষয়ে আমরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদেরকে মূল আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে বাকি আসামিদের সংশ্লিষ্টতা এবং প্রকৃত ঘটনা উন্মোচনের আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এখনও পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো সহযোগিতা আমরা পাইনি। প্রশাসন যদি আগামীতেও এমন করে আমরা উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও করবো।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় পরদিন ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বামী। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রধান আসামী ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে ফজলুর কারাগারে আছেন। অন্য তিন আসামি সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান পলাতক রয়েছেন।