ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬,১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জুলাই সনদ নিয়ে সমঝোতায় আসতেই হবে: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই সনদ থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। যে সমঝোতার রাস্তায় হাঁটা শুরু করেছি তা থেকে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ সমঝোতায় আসতেই হবে। আমি হয়তো গায়ের জোরে বলছি কিন্তু কথাটা ফেলে দেওয়ার উপায় নেই। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান আমাদের নবযাত্রার সুযোগ দিয়েছে। এর একমাত্র সমাধান সমঝোতার পথে গিয়ে নতুন বাংলাদেশ তৈরি করা।

আজ রবিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তৃতীয় ধাপের সংলাপের দ্বিতীয় দিনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, নানান যুক্তি থাকতে পারে কিন্তু সমাধানের পথে থাকতে হবে। অনেকের মনে কষ্ট হতে পারে, কিন্তু পরে শান্তি আসবে, দেশ শান্তি পাবে। দেশের শান্তিই বড় শান্তি। বিতর্কের মধ্যে থেকে গেলে সেটি যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে রাজনীতিবিদদের দেওয়া বক্তব্য তিনি টেলিভিশনের মাধ্যমে দেখেছেন। এ সময় তিনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর সময়ের কথা স্মৃতিচারণ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রথমে আমি নিশ্চিত ছিলাম না এ প্রক্রিয়া থেকে কী পাওয়া যাবে। ভাবছিলাম কথা শুরুর পর সেটি কলাপস করে যাবে। কিন্তু দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পর আমি অভিভূত হয়েছি এটা দেখে যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি চলছে। ঐকমত্য কমিশনের কাজ বিশ্বব্যাপী নজির হয়ে থাকবে। এটি যেন খুঁত ওয়ালা নজির না হয়, এটা আমার আবেদন। এমন নজির যা সারাবিশ্ব দেখবে এবং অনুসরণ করার চেষ্টা করবে। আপনারা মূল কাজটি সম্পন্ন করেছেন; এখন সামান্য পথ বাকি। সবকিছু নির্ভর করছে শেষ অংশটুকুর ওপর।

প্রধান উপদেষ্টা রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছেন। বাকি রাস্তাটুকু যাতে সুন্দরভাবে সমাপ্ত করে পৃথিবীর জন্য নজির সৃষ্টি করতে পারেন। যে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে সেটা শুধু আমাদের দেশের নয়; দুই দিন আগে নেপালেও একই ধরনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন সমস্যার সম্মুখীন হবে আরও অনেক দেশ। তাই আমাদের সমাধানের পথ সবাই মনোযোগ সহকারে দেখবে।

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে উল্লেখ করে সেটিকে তিনি সম্ভাব্য ‘মহোৎসবের নির্বাচন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন যদি আমরা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারি, তাহলে তা একটি মহোৎসব হবে এবং এর মাধ্যমে জাতির সত্যিকারের নবজন্ম হবে। এত ত্যাগ ও আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে।

ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আলাদিনের চেরাগের দৈত্য তৈরি করে দিয়েছে মন্তব্য করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমরা তার কাছে কী চাইব? আমরা কি তার কাছে এককাপ চা চাইব? না দুনিয়া পাল্টে ফেলতে চাইব। এটি হল আমাদের হাতে। কোনো বিষয় ছোট আকারে না রেখে, এই জাতিকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে তৈরি করে দিয়ে যাব। এ সুযোগটা এসছে। সেখানে ছোটখাট বিষয়ের মধ্যে আটকে গিয়ে আমরা যেন মূল বড় জিনিস হারিয়ে না ফেলি। বড় জিনিসের জন্য যাই, যে এই জাতিকে আমরা ভালোভাবে চালু করে দিলাম, এটা খালি উপর দিকে উঠবে, ডানে-বায়ে দরকার নেই। ওই অংশটা করেন।

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বৈরাচার আসার সব পথঘাট বন্ধ করা দরকার, যাতে কোনো দিক দিয়ে স্বৈরাচার আসতে না পারে। বাকিটা আমরা জানি। স্বৈরাচার বন্ধ করতে হলে সবাইকে একমত হয়ে কাজ করতে হবে। দ্বিমতের জায়গা নেই। দ্বিমত করলে সমাপ্ত করতে পারব না।

সবাইকে একমত হয়ে সনদ বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্ট বলেন, তাহলেই নির্বাচন সার্থক হবে। যতই আমরা নোক্তা দিয়ে যাই, আমাদের কিন্তু মহান ঐক্য দরকার। কী চাই সেটা ঠিক করলেই কীভাবে করবে তা দৈত্য ঠিক করবে। কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা বিশেষজ্ঞদের বলব, এটা করে দাও। সে পথে অগ্রসর হতে পারব।