ঢাকা | সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

সাড়ে ১১ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ বর্তমানে খালি রয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় জনবল সংকট কমিয়ে জনগণের চিকিৎসাসেবা আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

মন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের জন্য অনুমোদিত মোট ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। সেই হিসাবে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ এখনো পূরণ হয়নি।

তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় কতজন চিকিৎসক প্রয়োজন, তা নির্ধারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জনবলসংক্রান্ত মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ২০২৬ সালের এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড—প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৫০ জন চিকিৎসক—ধরা হলে ওই বছর বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে মোট কতজন চিকিৎসক রয়েছেন এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কতজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন—দুটি বিষয় এক নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতেও সরকার কাজ করছে।

এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একাধিক নিয়োগ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো ধাপে ধাপে পূরণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগও থাকবে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।