ঢাকা | শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬,২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

গাইবান্ধায় যুবদলের নেতাকর্মীদের হামলায় আহত শিবিরকর্মী মারা গেছেন

গাইবান্ধার সাঘাটায় কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে যুবদলের নেতা-কর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন (২৬) মারা গেছেন। দীর্ঘ ১ মাস ১৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী (২৪) নিহত হন। এ নিয়ে ওই একই ঘটনার হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুজনে। মৃত সালাউদ্দিন সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ জুন উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে। সেদিন বিদ্যালয়টির প্রধানশিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ওরফে মুকুল মিয়ার তর্ক-বিতর্ক ও প্রধান শিক্ষককে হেনস্তার ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চত্বরের চারমাথায় শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে পেয়ে যুবদল নেতা মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ সঙ্গীরা পুনরায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। বিষয়টি দেখে শিক্ষক হাবিবুল্লাহর আত্মীয় ও পরিচিত বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী ও শিবিরকর্মী সালাউদ্দিনসহ অন্যরা এগিয়ে এলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

উপস্থিত লোকজন তখন উভয়পক্ষকে সরিয়ে দিলেও এর ১০-১৫ মিনিটের মাথায় যুবদল নেতা মুকুল ও পলাশের নেতৃত্বে ১০-১২ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সালাউদ্দিন ও সাইফুল্লাহর ওপর হামলা চালায়। হামলায় সাইফুল্লাহ বারীর গলায় শাবল দিয়ে এবং সালাউদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত করা হয়।

হামলার পরপরই স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সাইফুল্লাহ বারীকে (২৪) মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাইফুল্লাহ বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে এবং রংপুর ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসার ছাত্র ছিলেন।

অন্যদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় সালাউদ্দিনকে প্রথমে বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে আজ সকালে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরদিন (২২ জুন) নিহত সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ ১৪-১৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে ইতোমধ্যে যুবদলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করেছে জেলা যুবদল।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, এ পর্যন্ত প্রধান আসামি মোখলেছুর রহমান মুকুলসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।