লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলা থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় একটি নতুন আন্তর্জাতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। জোটে সৌদি ছাড়াও রয়েছে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্মিলিত সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার একটি কাঠামো হিসেবে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাব আল-মানদেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগর- এই তিনটি জলপথে নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করবে জোটটি।
সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত এই জোটে প্রায় ৫০টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আশা করছে রিয়াদ। তবে আল জাজিরার খবরে বলা হয়, এরই মধ্যে তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান এবং কমোরোস জোটে থাকতে স্বাক্ষর করেছে।Geographic Reference
এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নেয়া হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন করে আবারও শুরু হয়েছে। বাড়ছে হুতি-সৌদি উত্তেজনাও। ফলে হরমুজ প্রণালির পর বাব আল-মানদেব প্রণালিও বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে।
লোহিত সাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এ পথে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এর আগে গত ২০ জুলাই হুতির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় বাব আল-মানদেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। পরে হুতি দাবি করে, সৌদি আরবের আরোপ করা অবরোধ লঙ্ঘনের প্রতিশোধ হিসেবে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা।
সৌদি আরব চায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক জোটের কার্যক্রম শুধু হুতিকে মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ না থাকুক। লোহিত সাগরে জলদস্যুতা ও চোরাচালান প্রতিরোধও জোটটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে বলে আশা করছে রিয়াদ।
জোটটি প্রতিষ্ঠার জন্য আয়োজিত বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সৌদি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল বৈঠকে। ১৩ দেশ জোটে থাকাতে সম্মত হলেও ইরান-কেন্দ্রিক এই সংঘাতের মধ্যে একই ধরনের নিরাপত্তা লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ওমান এতে স্বাক্ষর করেনি।
সৌদি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর জন্য তাদের জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর জোটে যোগদানের দরজা খোলা থাকবে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলো এই দৃঢ় বিশ্বাসে অটল যে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা একটি যৌথ দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয়ই হলো সাধারণ ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সামুদ্রিক হুমকি মোকাবেলার মূল ভিত্তি।’
প্রতিটি দেশ কী ধরনের জাহাজ বা বিমান সরবরাহ করবে, তা বিবৃতিতে বলা হয়নি। তবে, কার্যক্রমের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য, উপাত্ত এবং অভিযানিক পরিকল্পনা বিনিময়, সেইসাথে যৌথ মহড়া ও সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সম্পূর্ণরূপে আত্মরক্ষামূলক এবং কোনো রাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে না বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। এছাড়া এতে জোটটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সৌদি আরবকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে এবং এর সদর দপ্তরও সৌদিতেই হবে। যদিও বিবৃতিতে এর সঠিক অবস্থান নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।





