বন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশের প্রাণীকুলের রেডলিস্ট হালনাগাদকরণ’ প্রকল্পের আওতায় রাজশাহীতে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী পোস্টাল একাডেমির সম্মেলনকক্ষে কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।
কর্মশালায় রাজশাহী অঞ্চলের ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক, সাংবাদিক ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আগ্রহী ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণে পরিবেশ সংরক্ষণে বন্যপ্রাণীর ভূমিকা, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বন্যপ্রাণী অপরাধ ও শাস্তির বিধান, বন্যপ্রাণী আইন ও বিধিমালা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে মনিটরিং ড্রোনের ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহীর বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবিরের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো. রাহাত হোসেন। তিনি বলেন, রেডলিস্ট হলো কোনো দেশের প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকি নিরূপণের একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে হুমকির মুখে থাকা প্রজাতি শনাক্ত করে সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।
মো. রাহাত হোসেন বলেন, বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার ৬০০ প্রজাতির মূল্যায়ন করা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশে প্রথম রেডলিস্ট প্রণয়ন করা হয় ২০০০ সালে এবং ২০১৫ সালে তা হালনাগাদ করা হয়।
এবার আরও প্রায় ৬০০ প্রজাতি মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ এবং হাঙর-শাপলা (শার্ক ও রে) প্রজাতিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশিষ্ট বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান বলেন, রেডলিস্ট কোনো দেশের জীববৈচিত্র্যের বর্তমান অবস্থা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক দলিল। তিনি ঘড়িয়াল প্রজাতির উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, একসময় রাজশাহী অঞ্চলের নদীগুলোতে ঘড়িয়াল দেখা গেলেও বর্তমানে তা প্রায় বিলুপ্তির পথে। এ ধরনের প্রজাতিকে শনাক্ত ও সংরক্ষণে রেডলিস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সামাজিক বন বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপপ্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ জাহিদুল কবির, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ও বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল) মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী।
মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন অধিদপ্তর ইতিমধ্যে দেশব্যাপী ১ হাজার ২০০–এর বেশি স্বেচ্ছাসেবককে নিবন্ধনের আওতায় এনেছে। তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতেই এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
বন অধিদপ্তরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক (শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ উইং) মো. জাহিদুল কবির বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কোনো চাকরি নয়, এটি এক ধরনের দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসার বিষয়। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে এবং নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালায় দেশের খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ ও বন কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়ন করা হবে।





