ঢাকা | রবিবার, ৭ জুন ২০২৬,২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘শক্তিশালী ও অহংকারী’ বলেই যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করছে না ইরান: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নেতারা অত্যন্ত ‘শক্তিশালী’ ও ‘অহংকারী’। যে কারণে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনও কোনো চুক্তিতে সম্মত হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের চুক্তিতে আসা ছাড়া আর ‘কোনো বিকল্প নেই’ বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ জুন) উইসকনসিনের চিপেওয়া ফলসে এনবিসি নিউজের মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘তারা শক্তিশালী ও অহংকারী। এমন কিছু বিষয় আছে, যা তারা কখনও করবে বলে ভাবেনি। কিন্তু তাদের আর কোনো উপায় নেই। এসব করতে কিছুটা সময় লাগে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যখন আলোচনা চলছে তখনই ট্রাম্পের এ মন্তব্য এসেছে। চলমান যুদ্ধ গত সপ্তাহে চতুর্থ মাসে গড়িয়েছে।

গত এপ্রিল মাসে দুই দেশ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। তবে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার কংগ্রেস সদস্যদের জানান, ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ছিল ‘আত্মরক্ষামূলক’ এবং হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজে ইরানি হামলার প্রতিক্রিয়ায় চালানো হয়েছে।

রুবিও বলেন, ‘আমাদের বাহিনীকে রক্ষা করতে আমরা শুধু ড্রোন নয়, যেখান থেকে ড্রোন ছোড়া হয় সেখানেও হামলা করি। এগুলো সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ। তারা যদি জাহাজে হামলা না করত, তাহলে আমরাও হামলা করতাম না।’

সংঘাতের জেরে কয়েক মাস আগে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।

সাক্ষাৎকারে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চাপ দেয়া সমালোচকদেরও আক্রমণ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এসব বিষয় শেষ করতে বছরের পর বছর লেগে যায়।’

ইরানি নেতাদের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ৪৭ বছর ধরে লড়াই করছে। তারা আমেরিকানদের হত্যা করেছে।’ ইরান ‍যুদ্ধকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি খুব দ্রুত এগোচ্ছি। আমি মাত্র তিন মাসে আছি। ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর ধরে চলেছিল। অথচ সবাই জানতে চায়— কবে জিতবেন?’

ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করেছে। তবে ইরানের কাছে এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে।

তার ভাষায়, ‘ড্রোন কারখানার বেশিরভাগ ধ্বংস হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগ ধ্বংস হয়েছে, উৎপাদন কেন্দ্রগুলোরও বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু তাদের এখনও কিছু সক্ষমতা রয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ইরানের আগের তুলনায় এখন প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অবশিষ্ট রয়েছে।

তবে চলতি সপ্তাহে পারস্য উপসাগরজুড়ে একাধিক হামলা চালিয়ে ইরান দেখিয়েছে যে তারা এখনও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।