যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়াহ আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। গতকাল (সোমবার, ১৮ মে) আদালতে সশরীরে হাজির হওয়া থেকে অব্যাহতি চেয়ে তার পক্ষে একটি লিখিত ‘নট গিল্টি প্লি’ বা নির্দোষ দাবির আবেদন জমা দেয়া হয়েছে।
হিলসবোরো কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার এ জঘন্য মামলায় তারা অভিযুক্তের সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে ‘মৃত্যুদণ্ড’ দাবি করবে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, এ মামলার জুরি ট্রায়াল বা আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া ২০২৭ সালের ৩ নভেম্বর শুরু হওয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে এক গ্র্যান্ড জুরি শুনানিতে ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়াহর বিরুদ্ধে সাতটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অস্ত্রসহ প্রথম ডিগ্রির পরিকল্পিত খুন (দুটি অভিযোগ), মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের ভৌত আলামত নষ্ট বা কারচুপি করা (একটি অভিযোগ), অনুমোদনহীন বা অবৈধ অবস্থায় মৃতদেহ আটকে রাখা কিংবা স্থানান্তর করা (দুটি অভিযোগ) এবং তথ্য গোপনের উদ্দেশে মেডিকেল এক্সামিনার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মৃত্যুর খবর না দেয়া (দুটি অভিযোগ)।
ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী, প্রথম ডিগ্রির মার্ডারের মতো সর্বোচ্চ দণ্ডযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে গ্র্যান্ড জুরির আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রের প্রয়োজন হয়। আদালতের অনলাইন নথি থেকে জানা যায়, আলামত নষ্ট করার অভিযোগটি ছাড়া বাকি সব অপরাধের ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
মামলার হলফনামা থেকে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল হঠাৎ নিখোঁজ হন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি। তারা দু’জনেই বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইউএসএফ) পড়তে এসেছিলেন।
লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে এবং নাহিদা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পিএইচডি করছিলেন। ক্যাম্পাসের বাইরে লিমনের ফ্ল্যাটে তার রুমমেট হিসেবে থাকতেন অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়াহ।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেয়া হলফনামায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে অভিযুক্ত আবুঘারবিয়াহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি চ্যাটজিপিটিতে অনুসন্ধান করেছিলেন, মরদেহ কীভাবে গুম বা নিষ্কাশন করা যায়, সে বিষয়ে এবং কালো রঙের আবর্জনার বড় ব্যাগসহ বেশ কিছু সন্দেহজনক জিনিসপত্র কিনেছিলেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, আবুঘারবিয়াহ এ দুই শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন, এরপর অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ডের স্থানটি পরিষ্কার করে আলামত নষ্ট করেন এবং মরদেহ দু’টি লুকিয়ে ফেলে পরে তা আলাদা স্থানে ফেলে দেন।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলের শেষের দিকে লিমনের মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর থেকে উদ্ধার করা হয়। এর কয়েক দিন পরে সেন্ট পিটার্সবার্গের ইন্টারস্টেট ২৭৫ ও ফোর্থ স্ট্রিট নর্থের কাছাকাছি পানি থেকে উদ্ধার করা হয় নাহিদার মরদেহ।
এ জোড়া খুনের মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে ফ্লোরিডার স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ নিজেই আদালতে সরকারের পক্ষে আইনী লড়াই পরিচালনা করবেন, যা মার্কিন বিচার ব্যবস্থায় একটি বিরল ঘটনা।





