ঢাকা | মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬,৮ বৈশাখ ১৪৩৩

জ্বালানির অভাবে বন্ধ প্রায় অর্ধশত বিদ্যুৎকেন্দ্র

লোডশেডিংয়ের চিত্র দেখতে রাজধানীর কাছের সাভারের চানগাঁও এলাকায় যায় সময় সংবাদ। যেখানে সন্ধ্যা নামলেই দেখা দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিংও বেড়ে গেছে। দিনে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তারা জানান, তীব্র গরমে সুস্থ থাকা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। প্রচুর লোডশেডিং হচ্ছে, বিদ্যুৎ আসে কম আর যায় বেশি। রাতে ঘুমানোও কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। কখন বিদ্যুৎ যাবে বা আসবে, কোনো নিশ্চয়তা নেই। গরমে অনেক সময় রাস্তায় বসে থাকতে হচ্ছে।

একজন দোকানি তার সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে ক্রেতাও আসে না, বেচাকেনাও করতে পারেন না।

মোটাদাগে, ঢাকা মহানগর বাদে দেশের প্রায় সব এলাকায়ই এখন কমবেশি একই চিত্র। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ চাহিদা ঘুরপাক খাচ্ছে ১৪ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের আশপাশে। বিপরীতে প্রায় দ্বিগুণ সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে ঘাটতি।

গ্যাস ও ফার্নেস অয়েল সংকটে ধুঁকছে অর্ধশতাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আবার পর্যাপ্ত কয়লা না থাকায় বড় দুটি কয়লাভিত্তিক বেসরকারি কেন্দ্রের উৎপাদনও অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে দৈনিক লোডশেডিং কখনো কখনো দুই হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, গ্যাস থেকে যে পরিমাণ জেনারেশন হওয়ার কথা ছিল, সেটা হচ্ছে না। সাপ্লাইয়ে কিছুটা বিঘ্ন হয়েছিল, তবে আমরা তা অনেকটা রিকভার করছি। খুব শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি। আমরা এ নিয়েই কাজ করছি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি সহনীয় রাখতে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো জরুরি। একই সঙ্গে জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো কখনোই পুরোপুরি ব্যবহার করা হয়নি। এবার সেটি করতে হবে। সরকারের হাতে কিছু ব্যবস্থা আছে, তবে সেগুলো ঠিকভাবে ও সময়মতো ব্যবহার করতে হবে। না হলে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়তে হবে।

লোডশেডিংয়ে গ্রাম ও শহরের মধ্যে ভারসাম্য রাখার পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, গ্রামের মানুষ বেশি সময় বিদ্যুৎ বঞ্চিত থাকে, বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় তাদের বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও পাওয়া যায় না; এটা চরম অন্যায়। তাই আগে দরিদ্র ও গ্রামের মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে হবে। লোডশেডিংয়ের কষ্ট সবার মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করতে হবে।

এবার গ্রীষ্মের শুরুতেই যে হারে লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে, তাতে ইঙ্গিত মিলছে চলতি মৌসুমে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। এখন এই চ্যালেঞ্জ কতটা এবং কীভাবে সামাল দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ; সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সামনে দিনগুলোতে বিদ্যুৎ চাহিদা আরও বাড়বে, যা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াতে পারে।