সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লার মুরাদনগরে ঝাড়ু মিছিলসহ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘মুরাদনগরের সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মার্কেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলা চত্বর ও থানা এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমরা জুলাই–আগস্টে আন্দোলন করেছিলাম একটি নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার আশায়।
অথচ আমাদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় গিয়ে আসিফ মাহমুদ দুর্নীতি করে আমাদের আন্দোলনকে কলঙ্কিত করেছে। আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে সে মুরাদনগরে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করেছিল। এখন নিজের দুর্নীতি আড়াল করতে মুরাদনগরের জনপ্রিয় নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করছে।
সাবেক মেম্বার ছিনু আক্তার বলেন, আসিফ একজন দুর্নীতিবাজ বলেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়নি।
সৎ সাহস থাকলে ভোটের মাধ্যমে লড়াই করত, ঢাকায় বসে ষড়যন্ত্র করত না। আমরা মুরাদনগরের মানুষ তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। আমরা শুনতে পাচ্ছি, খুনিরা আবারও সোচ্চার হয়েছে। তারা আমাদের মুরাদনগরের অভিভাবক কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌহিদুর রহমান বলেন, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের মতো একজন জনপ্রিয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে আসিফ মাহমুদের দেওয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি কোনো রেফারেন্স দেননি, এমনকি কোন ব্যাংকের ঋণখেলাপি- তাও উল্লেখ করতে পারেননি। এমন একজন ব্যক্তি উপদেষ্টা ছিলেন, ভাবতেই রুচিতে বাধে।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ টানা ১৩ বছর বিদেশে থাকতে বাধ্য হন। কারণ মুরাদনগরে তার জনপ্রিয়তা ছিল প্রশ্নাতীত।
তিনি এলাকায় উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিয়েছিলেন, যার ফলেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে ব্রিকস ফিল্ডে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। সেই ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে শেখ হাসিনার সহায়তায় ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন তাকে ২১ আগস্ট মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর দেশে ফিরে আসার পরও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। বর্তমানে এক নব্য ফ্যাসিস্ট ও দুর্নীতিবাজ আসিফ মাহমুদ নিজের অপকর্ম আড়াল করতে কায়কোবাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। সে যদি সত্যিই বিপ্লবী হতো, তবে কখনও দুর্নীতিতে জড়াত না। গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে আসিফ মাহমুদ একটি মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে কায়কোবাদকে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অপবাদ দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে।






