রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালসহ আট দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটা অংশ। তাদের দাবি, ভর্তির সুযোগ পূর্বের ‘পোষ্য কোটা’র মত নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার অংশ।
শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল বিজ্ঞান ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল আলিম।
দাবি আদায়ে ১৭ অগাস্ট প্রশাসন ভবনে তিন ঘণ্টা কর্মবিরতি এবং ১৮ অগাস্ট থেকে ক্যাম্পাসে নানা কর্মসূচি পালনের কথা বলেছেন তিনি।
অন্য দাবিগুলো হলো- ক্যাম্পাসের সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; পর্যাপ্ত আবাসিক নিশ্চিত; পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন; শিক্ষকদের ব্যক্তিগত চেম্বারের ব্যবস্থা ও গবেষণার জন্য অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি; শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা; কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজের পরিবেশ উন্নয়ন এবং ফ্যাসিবাদী, দুর্নীতিবাজ ও নিপীড়কদের দ্রুত বিচার ও শান্তি নিশ্চিত করা।
লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণের পেছনে মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ও বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পার হলেও তেমন অগ্রগতি হয়নি।
“রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রও প্রায় একই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, আবাস, যাতায়াত, পেশাগত সুবিধা উন্নয়ন কিংবা দুর্নীতিবাজ ও নিপীড়কদের দ্রুত বিচারের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এসব জরুরি বিষয়ে ফলপ্রসূ উদ্যোগ না আসায় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে নেমেছেন।”
তিনি বলেন, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরতদের সন্তানরা ভর্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পাচ্ছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, শাহজালাল ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে এ সুবিধা বহাল বা পুনর্বহালের খবর সবার জানা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান, অফিসার সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।






