ঢাকা | বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬,১৯ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে ৪১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকার পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

একনেকে পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পসহ মোট ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন ১১টি এবং সংশোধিত দু’টি প্রকল্প রয়েছে।

বুধবার বিকালে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

এর আগে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, পিইডিপি-৫ প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক শিক্ষার সব ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, পুরোনো বিদ্যালয় সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, শিক্ষার্থীদের জুতা, স্কুল ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ রয়েছে। তবে প্রকল্পের পরামর্শকসহ কয়েকটি খাতের ব্যয় যৌক্তিকীকরণ এবং রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব পর্যবেক্ষণ যুক্ত করে প্রকল্পটি পুনরায় উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পিইডিপি-৫ প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িতব্য এ কর্মসূচির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত।

এ ছাড়া অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দু’টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ (তিতাস-৩২ ও ৩৩) খনন প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ৫৯২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত যানবাহন কেনায় ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং অপারেশনাল যানবাহন কেনায় ৪ হাজার ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার দু’টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপনে ব্যয় হবে ৫৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে ১ হাজার ২০৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালসংলগ্ন পাড় সংরক্ষণ, নালা নির্মাণ ও পুনঃখননে ৭৩০ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ২ হাজার ৫৬৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩-এর তৃতীয় সংশোধনীতে ১০ হাজার ৪৭৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা, ঢাকা সেনানিবাসে অফিসারদের আবাসন নির্মাণে ১৭৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং জিগাতলা গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণে ২০০ কোটি ১১ লাখ টাকা।

এ ছাড়া গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার পর্যন্ত সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা।