ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ইংরেজি কোর্সের ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। পরে প্রকাশিত ফল নিয়ে অসন্তোষ থেকে সাত কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেন। তবে আবেদনের প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশিত না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইংরেজি কোর্সের পরীক্ষায় ভালো প্রস্তুতি নিয়ে অংশগ্রহণ করেও অনেকে অকৃতকার্য হয়েছেন। এ কারণে তাঁরা ফল পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পুনর্মূল্যায়নের ফল না পাওয়ায় তাঁদের পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে সামনে নতুন করে ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা করা হলে পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে শিক্ষার্থীরা জটিলতায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন। তাঁদের মতে, নির্ধারিত সময়ে পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হলে পরবর্তী একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা কমত।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা তাঁদের মানসিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলছে। তাই দ্রুত আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি করে ফল প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুশতাক আহমেদ সিয়াম বলেন, “আমি নিজে ইংরেজি পরীক্ষা ভালোভাবে দিয়েছি। দুঃখজনক বিষয় হলো, ফল প্রকাশের পর দেখি আমি অকৃতকার্য হয়েছি। পরবর্তী সময়ে আমাদের বিভাগ থেকে ৫০টিরও বেশি খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য গত ২৩ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুনর্মূল্যায়নের কোনো ফল প্রকাশিত হয়নি। বিষয়টি আমাদের জন্য খুবই হতাশাজনক।”
তিনি আরও বলেন, “সামনেই ফরম পূরণের নতুন সময়সূচি দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ না হলে আমাদের জন্য এটি চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। আমরা চাই, দ্রুত পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হোক, যাতে পরবর্তী একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে আমাদের অনিশ্চয়তায় থাকতে না হয়।”
এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, “পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করার পর থেকেই আমরা একাধিকবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু প্রতিবারই যোগাযোগের চেষ্টা করেও আমরা এখন পর্যন্ত ফলাফল পাইনি। দীর্ঘ ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে আবার তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হতে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “একদিকে পুনর্মূল্যায়নের ফলের অপেক্ষা, অন্যদিকে পরবর্তী বর্ষের পরীক্ষার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে আমরা মানসিকভাবে বেশ চাপে আছি। ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতার কারণে স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন নিয়েও আমরা দুশ্চিন্তায় রয়েছি। এ অবস্থায় পড়াশোনায় পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, শিক্ষার্থীদের এই অনিশ্চয়তা দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আমাদের দাবি, আর বিলম্ব না করে অতি দ্রুত পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হোক, যাতে আমরা দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে পরবর্তী বর্ষের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী বলেন, “পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশে কিছুটা সময় লাগে। অনেক সময় সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্র খুঁজে বের করতে সমস্যা হয়। বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্রের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট খাতাগুলো শনাক্ত করে সংগ্রহ করতে হয়। এরপর সেগুলো পুনর্মূল্যায়নের জন্য পাঠানো এবং মূল্যায়ন শেষে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফল প্রকাশ করতে হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধাপ থাকায় কিছুটা বিলম্ব হয়।”
তিনি আরও বলেন, “কোন সময়ের মধ্যে পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে, তা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে এ ধরনের যেসব আবেদন রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শাখাকে জানিয়ে যত দ্রুত সম্ভব প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য বলব।”





