ঢাকা | সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬,১৭ কার্তিক ১৪৩৩

তদবিরে যদি পজিশন হয় তাহলে মেধার দরকার কী—প্রশ্ন শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ঢাকায় পদায়নের জন্য তদবির করা হলে তা গ্রহণ করা হবে না। মেধার ভিত্তিতেই কর্মকর্তাদের পদায়ন ও মূল্যায়ন করতে হবে। যারা শ্রেণিকক্ষে ভালো পড়াবেন, তারাই পুরস্কৃত হবেন।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ঢাকায় পোস্টিং দিতে হবে—এমন তদবির কেউ করল, আর আমি দিয়ে দিলাম, তা হতে পারে না। তদবিরে যদি পদায়ন হয়, তাহলে মেধার দরকার কী? তাই না? মেধার মূল্যায়ন থাকতে হবে। যারা ক্লাসে ভালো পড়াবেন, তারাই পুরস্কার পাবেন।

তিনি আরও বলেন, অন্য মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা কেন আমাকে তদবির করবেন? আপনাদের মেধার মূল্য থাকতে হবে।

শিক্ষা কমিশন গঠন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা কমিশন করার কথা ছিল, কিন্তু আমি তা করিনি। আমি করতে চাচ্ছি না। আমি একটি এডুকেশন কমিশন গঠন করলাম। কিন্তু যাদের দিয়ে কমিশন গঠন করব, তারা আজকের অবস্থানে জ্ঞানী ব্যক্তি। আজকের অবস্থানে যিনি জ্ঞানী, তিনি অতীতের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে জ্ঞানী হয়েছেন। কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থা যেভাবে রূপান্তরিত হচ্ছে, ভবিষ্যতে এটি কোন দিকে যাবে, তা তো আমরা জানি না।

গণমাধ্যমে তার বক্তব্য উপস্থাপনের ধরন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম সেদিন ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে বিরাট নিউজ করল। তারা ফতোয়া দিয়ে দিলেন, আমি কোন জেন্ডারে বিশ্বাসী। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষার কোনো জেন্ডার নেই। শিক্ষার কোনো লিঙ্গ থাকে না। এডুকেশন ইজ আ কমন কমোডিটি। আমার বক্তব্য ভিন্নভাবে প্রচার করেছে। এই হলো আমাদের গণমাধ্যমের অবস্থা।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষায় কোনো জেন্ডার আছে কি? পৃথিবীতে কেউ কি এমন কথা বলেছে? ওপেন ইউনিভার্সিটিতে সবাই যেতে পারবেন। আমার বলার বিষয় ছিল, একজন যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এখানে বলা হলো, কারিকুলাম পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের যদি ল্যাপটপ থাকত, তাহলে আপনারা বিদেশের শিক্ষাব্যবস্থা দেখতে পারতেন। তাহলে বুঝতে পারতেন।

আগামীর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা আগামীর বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য কাজ করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ জন্য মরিয়া হয়ে কাজ করছেন। যদি কেউ শিক্ষকদের উন্নয়নের চিন্তা না করেন, তাহলে তাকে কি আপনারা মন্ত্রিত্ব দিতেন?

শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এআইয়ের ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা। শিক্ষায় এআই ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট। শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সবচেয়ে বড় মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন নায়েমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন), কোর্স উপদেষ্টা এবং কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর প্রিম রিজভী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নায়েমের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের কোর্স পরিচালক প্রফেসর ড. নাসিমা খান।