ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬,১১ কার্তিক ১৪৩৩

ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসায় অগ্নিসংযোগ, পরিচালক গ্রেফতার

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ভাউডাঙ্গা কালুরপাড়া এলাকায় একটি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১০) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসার পরিচালক আবু ইউসুফকে (৫৫) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসা ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে ‘নুরে মদিনা আবাসিক মহিলা মাদ্রাসা’য় এ ঘটনা ঘটে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, একটি ভাড়া বাড়িতে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন অভিযুক্ত আবু ইউসুফ। ভবনের একটি কক্ষে নারী শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ছাত্রীরা থাকতেন এবং পাশের কক্ষে থাকতেন পরিচালক। শুক্রবার ভোরে চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা চালান তিনি। শিশুটির আত্মচিৎকারে অন্যান্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা টের পেলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার ভোরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে কক্ষ থেকে বের হয় চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রী। এ সময় তাকে টেনেহিঁচড়ে নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন পরিচালক আবু ইউসুফ। পাশের আরেক ছাত্রী ঘটনাটি দেখে ফেললে দ্রুত বাইরে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে ডাকতে থাকে। পরে লোকজন ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত পরিচালককে আটক করেন। খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় লোকজন। একপর্যায়ে তারা মাদ্রাসা ভবনে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। ভবনে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় পুলিশ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে এর আগেও ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের মৌখিক অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানা যায়নি।

আটক আবু ইউসুফ পাবনার আতাইকুলা থানার খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুবের ছেলে।

ভুক্তভোগী শিশুটির চাচা শফিকুল ইসলাম এ ঘটনায় বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।

পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাদ্রাসার অন্য ছাত্রীদের নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।