ঢাকা | রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবির আবাসিক হলে ঘুমন্ত শিক্ষার্থীকে বিষধর সাপের কামড়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের গণরুমে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা এক শিক্ষার্থীকে একটি বিষধর সাপ কামড় দিয়েছে। কামড় দেয়ার পর অত্যন্ত বিষধর পাতি কালাচ’ বা ‘পাতি কেউটে’ নামের সাপটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে সাপটি দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। পরে খবর পেয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার (সোয়ান), রাবি শাখার চার সদস্য প্রায় ৩০ মিনিট খোঁজাখুঁজির পর সাপটি উদ্ধার করেন।

সাপে আক্রান্ত শিক্ষার্থীর নাম নুরনবী ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। রাকসুর পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীকে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে অ্যান্টিভেনম দেয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা হিসেবে আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

জানা গেছে, ভোরে কক্ষে সাপটি দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা সোয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সাপটি নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

সাপটি উদ্ধার করেন সোয়ান রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সামিত বিন রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ শেখ এবং স্বেচ্ছাসেবক শুভ ও বাঁধন। তারা জানান, উদ্ধার করা সাপটি ‘পাতি কালাচ’ বা ‘পাতি কেউটে’। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Common Krait। এটি নিউরোটক্সিক বিষধর সাপ।

সাপটি উদ্ধারের বিষয়ে সোয়ান রাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ শেখ বলেন, ‘কমন ক্রেইট মারাত্মক বিষধর সাপ। এটি সাধারণত রাতে চলাচল করে। কামড় দেয়ার পর অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। ঘুমন্ত অবস্থায়ও এ সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটতে পারে।’

সাপের কামড় থেকে নিরাপদ থাকতে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘হলের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। রাতে জানালা বন্ধ করে রাখা এবং রুমের আশপাশে কোনো গর্ত থাকলে তা বন্ধ করা জরুরি। রাতে চলাচলের সময় সঙ্গে লাইট রাখা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘রুমের আশপাশে অন্তত এক থেকে দেড় হাত জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার করে রাখতে হবে, যাতে সাপ সহজে প্রবেশ করতে না পারে। আমাদের কাজ মানুষের জীবন বাঁচানো, যাতে কেউ সাপের দ্বারা আক্রান্ত না হন। অন্যদিকে সাপও প্রকৃতির সম্পদ। তাই সাপটিকেও বাঁচানোর চেষ্টা করি।’

সোয়ান রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সামিত বিন রহমান বলেন, ‘চলতি মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সোয়ান রাবি শাখা ১০ থেকে ১৫টি সাপ উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই নির্বিষ সাপ। তবে বিষধর সাপের মধ্যে কালাচ ও গোখরাও উদ্ধার করা হয়েছে। রাবিতে বিষধর সাপের মধ্যে কালাচ ও খয়েগোখরার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। এসব সাপ সাধারণত রাতের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। তাই রাতে শিক্ষার্থীদের চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘সাপের কামড়ে আক্রান্ত শিক্ষার্থী বর্তমানে স্থিতিশীল আছে। ইতোমধ্যে তাকে অ্যান্টিভেনম দেয়া হয়েছে। আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হলের প্রভোস্ট ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তারাও হাসপাতালে যাচ্ছেন। আমি সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মনিটর করছি।’