ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬,২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

জবিতে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ ৫ দাবিতে মানববন্ধন

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো হয় এবং এ ঘটনাকে অতীতের স্বৈরাচারী আমলের ক্যাম্পাস বন্ধের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন সংগঠনটির নেতারা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ ৫ দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।

এ সময় তারা জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর-বাস্তবায়ন, টেন্ডারবাজি-দুর্নীতি বন্ধের দাবিও জানায় নেতারা।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় জবির মূল ফটকে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি জানায়।

দাবিগুলো হলো— দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে; ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে; জবিতে গতকাল হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে; আগামী ছয় মাসের মধ্যে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে; এবং সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো হয় এবং এ ঘটনাকে অতীতের স্বৈরাচারী আমলের ক্যাম্পাস বন্ধের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন সংগঠনটির নেতারা। তারা বলেন, ‘গতকাল আহত শিক্ষার্থীরা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে সেখানেও যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিচার করতে হবে।

বিক্ষোভ মিছিলে জবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ছাত্রলীগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাস দখল করে সেগুলোকে টর্চার সেলে পরিণত করেছিল। একইভাবে বর্তমান সরকারের ইঙ্গিতে ছাত্রদলও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তাদের দখলে নিতে দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘গতকালের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদল যৌথভাবে দায়ী। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের বা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি দেশের সব মানুষের এবং শিক্ষার্থীদের। ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে ছাত্রদলকেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হবে।’

জবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, ‘প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে ছাত্রদলকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করিয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপরও ছাত্রদল হামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ হাজার শিক্ষার্থী ও দেশের মানুষের ক্যাম্পাস। ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলকেও ক্যাম্পাসের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘গতকালের হামলার জন্য ছাত্রদলের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও দায়ী। ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী, জকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ ৬০-এর বেশি শিক্ষার্থী হামলায় আহত হয়েছেন। হামলার সঙ্গে জড়িত প্রশাসনের সদস্যদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।’