ঢাকা | সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

বড় শহরে শিক্ষার্থীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস চালুর পরিকল্পনা

দেশের বড় জেলা শহরগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও ভোগান্তিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানজট কমানো এবং পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ‘বৃহৎ জেলা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণপরিবহনভিত্তিক যাতায়াতব্যবস্থা প্রকল্প’ নামে একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে প্রায় এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আজকের প্রত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানায়, ১৪ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা আরও গভীরভাবে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মাউশি জানিয়েছে, প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হলে তা সম্পন্ন করে প্রথমে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পাইলট কার্যক্রমের ফলাফল সন্তোষজনক হলে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এ বিষয়ে মাউশির পরিচালক অধ্যাপক ড. মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, ‘বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে কি না, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৩ হাজার ৯৯৩টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কিছু পরিবহন সুবিধা থাকলেও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিকল্পিত কোনো গণপরিবহন ব্যবস্থা নেই। ফলে তাদের সাধারণ গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়।

বিশেষ করে স্কুল ও কলেজ শুরু এবং ছুটির সময়ে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট, অনিয়মিত যানবাহন চলাচল এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

মাউশির কর্মকর্তারা জানান, এ সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে বড় জেলা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট রুটের আওতায় এনে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান, শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং যাতায়াতের চাহিদা বিশ্লেষণ করে রুট নির্ধারণ করা হবে। নির্দিষ্ট স্টপেজ ও সময়সূচি অনুযায়ী বাস চলাচল করবে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস)–সুবিধাসম্পন্ন পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালু করা হবে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় এ সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পাইলট প্রকল্প শেষে বাসের রুট, ভাড়া ও পরিচালনাব্যবস্থাসহ অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।

প্রথম ধাপে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় এ সেবা চালুর কথা ভাবা হচ্ছে।

শিক্ষাবিদ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত গণপরিবহন চালু হলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও ছোট ভাড়ার যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে অভিভাবকদের পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের যানজটও কমবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তারা আরও বলেন, বড় শহরগুলোতে সফলভাবে এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শহরেও তা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহন চালুর উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। এতে যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক যানজটও কমবে। তবে রুট পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বাস এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়া নিশ্চিত করতে হবে।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব ও সময়োপযোগী। তবে শুধু বাস কিনলেই হবে না, এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে শুরুতেই খুচরা যন্ত্রাংশের সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে বাসগুলো অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।’