ঢাকা | রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬,২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

নকল করতে না পেরে কলেজে ভাঙচুর

ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষায় নকল করতে না পেরে কলেজ কেন্দ্র ভাঙচুর করেছে একদল পরীক্ষার্থী ও বহিরাগত। এ ঘটনায় পরীক্ষা শেষে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক, গভর্নিংবডির সভাপতি ও পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হামলাকালীদের ওপর লাঠিচার্জ ও কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টার দিকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে কলেজের গেইটে অবস্থান নেয়। পরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে বিক্ষোভ করে কলেজের গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে অধ্যক্ষের কক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, তার কেন্দ্রে ৯০০জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন নিয়মিত পরীক্ষা দিচ্ছেন। তার সবাই চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। আজ তাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষা ছিল। প্রশ্ন কমন না পড়ায় পরীক্ষার্থীরা অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করলে কক্ষ পরিদর্শকরা তাতে বাধা দেন। এতে পরীক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। খবর পেয়ে তিনি কক্ষে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের নিয়ম মেনে পরীক্ষা দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে পরীক্ষার্থীরা কিছুটা নিভৃত হলেও সৃজনশীল প্রশ্ন দেওয়ার পর আবারও কক্ষ পরিদর্শকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে। তারা হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এই শঙ্কা থেকে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরই মধ্যে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আসে।

দুপুর ১টার দিকে পরীক্ষা শেষ হলে পরীক্ষার্থীরা সবাই কলেজের প্রধান গেইটে অবস্থান নেয়। সেখানে সবাই সংঘবদ্ধ হয়ে কলেজের গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেটি ব্যর্থ হয়ে তারা পিছনের গেটে ভেঙে ও ওয়াল টপকিয়ে কলেজের বিভিন্ন কক্ষে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে তারা পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষকরা তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করেন। এতে করে কলেজের গভর্নিংবডির সভাপতি হুমায়ুন কবির সিকদারসহ ৪-৫ জন শিক্ষক আহত হন।

হামলাকারীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে আরও বেশ কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি। মামলা হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানান, পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করতে না দেওয়ায় চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে জরুরি বৈঠক করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।