পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ট্রাকভর্তি সরকারি পাঠ্যবই জব্দের ঘটনার চার দিন পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তা ধামাচাপা দিতে অভিনব কৌশল নিয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক। হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতার হোসেন বই বিক্রি বাবদ ৪ হাজার ২০০ টাকা গত রোববার সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে তিনি পুরো বিষয়টির একটি ‘সহজ সুরাহা’ করতে চাইছেন।
গত শুক্রবার বিকেলে মঠবাড়িয়া-পিরোজপুর সড়কের উত্তর মিঠাখালী এলাকা থেকে প্রায় দশ টন বইভর্তি ট্রাকটি জব্দ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজের তত্ত্বাবধানে বগুড়া ট্রান্সপোর্টের একটি ট্রাকে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি ও ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণির এসব বই অন্য জায়গায় বিক্রির জন্য ওঠানো হচ্ছিল। এলাকাবাসীর কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ ট্রাকটি জব্দ করেন।
হান্নান এন্টারপ্রাইজের মালিকের ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ জানিয়েছিলেন, সরকারি হাতেম আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫৮৭ কেজি বই জাকারিয়া নামের এক ফেরিওয়ালার তাঁর কাছে সম্প্রতি বিক্রি করেন।
এসব বই বিক্রির কথা স্বীকার করেন হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতার হোসেন। তাঁর দাবি, তারা রেজল্যুশন করে বই বিক্রি করেন। এ বাবদ ৪ হাজার ২০০ টাকা পান। বিজ্ঞানাগার পরিষ্কারের জন্য পুরোনো বই খাতা বিক্রি করা হয়েছে। বইগুলো পুরোনো সিলেবাসের বলে দাবি করেন তিনি। তবে ইউএনওকে না জানিয়ে বই বিক্রি করায় ভুল হয়েছে বলে জানান আখতার হোসেন। ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে বিক্রির টাকা সোনালী ব্যাংকের মঠবাড়িয়া শাখার অনুকূলে জমা দিয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ সরকারি পাঠ্যবই বিক্রি সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। একই সঙ্গে তা দণ্ডনীয়। মঠবাড়িয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রধান শিক্ষকসহ জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




