ঢাকা | বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,১০ আষাঢ় ১৪৩৩

গাঁজা সেবনের অভিযোগে সিনিয়র-জুনিয়রের মারামারি, তদন্তে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্রোহী হলে মাদক সেবনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা গেছে।

ছয় সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন কলা অনুষদের ডিন ও ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং সদস্য সচিব হিসেবে আছেন প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান। বাকি সদস্যরা হলেন বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. তারিফুল ইসলাম, আইন ও বিচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আসাদুজ্জামান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম। আগামী ০৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে আজ দুপুরে আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক মিছিল নিয়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেয়। পরবর্তীতে প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা উপস্থিত হয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেন।

জানা গেছে, বিদ্রোহী হলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন আইন ও বিচার বিভাগের ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হান্নান এবং দর্শন বিভাগের ১৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধ। রবিবার (২১ জুন) রাতে মুগ্ধের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তুলে হল প্রশাসনকে জানান হান্নান। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম কক্ষটি পরিদর্শন করলেও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়। পরবর্তীতে হান্নান কক্ষে ফিরে অ্যাশট্রেতে গাঁজার অংশবিশেষ দেখতে পান বলে দাবি করেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হান্নান মুগ্ধকে চড় মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রাতে ৬১৫ নম্বর কক্ষে খাবার খাওয়ার সময় মুগ্ধসহ কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থী হান্নানের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এদিকে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে হলের সেই ৭১৪ নং রুমে নিজ সিটে অন্য শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে রাখায় ৩ শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করেছে হল প্রশাসন।