গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্যের যোগদানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। নতুন ভিসিকে প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল ও বহিরাগতদের দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
রোববার (১৭ মে) সকাল থেকেই নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালের যোগদানের প্রতিবাদে লাল কার্ড কর্মসূচি পালন করে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, উপাচার্যের যোগদানকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের বাইরে জড়ো হতে থাকে ডুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও বহিরাগতরা। বেলা ১১টার দিকে নবনিযুক্ত ভিসির গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে মূল ফটক বন্ধ করে বাধা দেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ।
ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তাদের ওপর ছাত্রদল ও বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিবাদে ক্যাম্পাসের ভেতরে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে বেশ কয়েকটি অবিস্ফোরিত ককটেলও উদ্ধার করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর পুরো ক্যাম্পাস এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ গেটের ভেতরে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এতে গেটের বাইরে থাকা পুলিশ, সাংবাদিক ও সাধারণ ছাত্রসহ ১৪/১৫ জন আহত হয়। আমরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি। ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে গত বৃহস্পতিবার সরকার ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামেন। তাদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকনেতাও ডুয়েটের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।






