ঢাকা | সোমবার, ১১ মে ২০২৬,২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ইবি ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় বিতর্কিত দুই ছাত্র নেতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সিনিয়র এবং সিনিয়র-জুনিয়র সমন্বয়ে দুইটি খসড়া তালিকা জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই তালিকায় দুই বিতর্কিত ছাত্রদল নেতাকে রাখা হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ ছাত্রদলেরই নেতাকর্মীরা। তারা বিতর্কিত ছাত্রনেতাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।

দলীয়সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সদস্য নুর উদ্দিন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল সদস্য রাফিজ আহমেদকে নতুন কমিটির খসড়া তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। তবে তাদের দুজনের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটির শীর্ষ পদপ্রত্যাশী নুর উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতে ছাত্রলীগের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ‘University Update’, ‘Anamul Islam’সহ বেশ কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে ছাত্রলীগের সাথে নুর উদ্দিনের ছবি ভাইরাল হয়। ছবিতে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রেজওয়ানসহ ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীর সাথে একটি দলীয় প্রোগ্রামে নুর উদ্দিনকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সিট দখলের অভিযোগ রয়েছে।

”Anamul islam” নামক আইডিতে ছাত্রলীগের সাথে নুর উদ্দিনের ছবি পোস্ট করে বলা হয়, ‘গুপ্ত ভাইটি একদা হানিফের বাড়িতে ছাত্রলীগের ছায়াতলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনে। সে এখন ছাত্রদলের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী। ভাইটি সারাদিন গুপ্ত বলে মুখে ফেনা তুলে অথচ সে নিজেই দেখি গুপ্ত’।

অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদপ্রত্যাশী রাফিজ আহমেদের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠছে। ফেসবুকে ‘জাতিযতাবাদী খাম্বা দল’, ‘ Rafiya islam’সহ কয়েকটি ফেসবুক আইডি ও পেইজ থেকে রাফিজে ন্যুড ছবি ও ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেটি ছড়িয়ে পরলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাখা ছাত্রদলের একাধিক কর্মী বলেন, এধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। ছাত্রদলের সুনাম, মর্যাদা ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য নেতাকর্মীদের আরও সচেতন থাকা উচিত।

শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, তথ্য এবং ছবি দেখে যতটুকু বুঝেছি নুর উদ্দিনসহ ঐ ছবিতে ছাত্রলীগের একাধিক উচ্ছৃঙ্খল পদধারী নেতাকর্মী ছিল। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের বাড়ির সামনে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তোলা ছবিটি। এছাড়া রাফিজের একটি অশালীন ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা দেখছি। সবাই অবহিত আছেন এ বিষয়ে। ছাত্রদলের একজন নেতার দ্বারা এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি যথেষ্ট ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং হচ্ছে বলে মনে করি। তবে আমি বিশ্বাস করি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সবকিছুর চুলচেরা বিশ্লেষণ করতেছে এবং এই বিষয়গুলো অবশ্যই তাদের ধারণায় আছে। সংগঠন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে রাফিজ আহমেদ বলেন, এটা সম্পূর্ণ অসত্য বিষয়, যার সাথে আমার কোনো সংশ্লীষ্টতা নাই। ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি হবে, সেই কমিটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আসতে বাঁধা সৃষ্টি করার জন্যে একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ইডিটেড ছবি নিয়ে আমার চরিত্র হননের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন ফেইক আইডি থেকে এই পোস্টগুলো করা হচ্ছে। গত পরশুদিন একটা নতুন আইডি খুলে আমার বিরুদ্ধে পোস্ট করা হয়েছে। আমি সেটার বিরুদ্ধেও জিডি করেছি।

অভিযোগের বিষয়ে নুর উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি একই সময়ে তিন ধরনের বক্তব্য দেন। প্রথমে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছবির ব্যক্তিটি আমি নই এবং ছবিতে থাকা ছাত্রলীগ নেতা বলে যাকে দাবি করা হচ্ছে আমি তাকেও চিনি না। ২০২১ সাল থেকে ছাত্রলীগ ও হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া আমার বিভিন্ন স্টেটমেন্ট ও ভিডিও আছে।

পরে তিনি আবার বলেন, এই ছবিটি সম্ভবত ২০১৯ সালের। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার দুই বা তিন মাস পরে আতাউর রহমান আতা কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক হয়। তখন আমরা ডিপার্টমেন্ট থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুরের জন্য আর্থিক অনুদানের জন্য আমরা তাদের কাছে যাই। ওই ছবিতে আমার ডিপার্টমেন্টের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তৌহিদুল ভাই, আমার বন্ধু হিমেল, আরিফ, লিমনসহ আমরা ছিলাম। কারো সাথে আমাদের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

এর পরক্ষণেই তিনি আবার ছবিটিকে এআই জেনারেট দাবি করে বলেন, আমরা যখন আতাউর রহমান আতার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম তখন কোনো ছবি তোলা হয়নি।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্র আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, বিভিন্ন ফেইক ফেসবুক আইডি থেকে এধরনের পোস্ট হতে পারে। যার কোনো সত্যতা নেই।