ঢাকা | শনিবার, ৯ মে ২০২৬,২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

ছাত্রদল নেত্রী নেলির যথাযথ শাস্তি চেয়ে কঠোর হুশিয়ারী জকসুর

রাকিব খান, জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড় মারার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নেলিকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও প্রশাসনের সহযোগিতায় পরদিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে জকসুর অন্যান্য সদস্যরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সামনে এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তদন্ত রিপোর্ট চেয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেন ভিপি রিয়াজুল ইসলাম।

এ বিষয়ে জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “গত বৃহস্পতিবার ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে হল সংসদের জিএস পদপ্রার্থী নেলি আইন ও ভূমি প্রশাসনের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী তার একক ক্ষমতাবলে কোনো ধরনের অনুতপ্ত না হয়ে সে যে ধরনের স্বেচ্ছাচারমুলক আচরণ করেছে এবং জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী জর্জিস আনোয়ার নাইমকে আক্রমণত্বাক এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চনার ঘটনা ঘটেছে আমরা ইতিপূর্বে তার নিন্দাজ্ঞাপন করেছি।

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এর ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছি প্রশাসন সেটি আমলে নিয়েছে। প্রশাসন আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে তারা তাদের যায়গা থেকে এর উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করবে। আমরা এমন দৃশটান্তমুলক শাস্তি চাই যারা এমন কাজ করে বা করতে চায় শুধু একজন শিক্ষার্থী সংসদের সদস্য হিসেবে না, কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুলার সাহস না করে।”

এ বিষয়ে জকসুর সহ সভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম বলেন,”বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম সদস্য ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাইমের সাথে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমরা প্রশাসনের কাছে বিচার চাইলে তারা বলে যে বিচার করবে। কিন্তু দুইদিন পরেও বিচার নাহলে আমরা প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেই সোমবারের মধ্যে বিচার করতে হবে। কিন্ত প্রশাসন বিচারের নাটক করে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে। কিন্ত বহিষ্কারের পরের দিনই ঐ অভিযুক্ত নেলিকে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করার জন্য নির্দেশ দেয়। আমরা চেয়েছিলাম প্রশাসন এর সুন্দর বিচার করবে কিন্তু প্রশাসন সেটি করেনি।”

তিনি এর আগের এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন,”এই ভিসি ভবনের সামনেই আমাদের সাবেক প্রক্টর তাজাম্মুল স্যার কে সাবেক শিক্ষার্থীরা ধাক্কা দেয় যেসব শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে থাকার কথা না। তারা রমজান মাসেও আমাদের শিক্ষকদেরকে হেনস্থা করে এবং তাদের ফোন চেক করে। এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করে। কিন্ত প্রশাসন এসব ঘটনার কোনো ব্যাবস্থা গ্রহন করে নাই।”

রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিনিধিকে হেনস্থা করা হলো, শারীরিক ভাবে আঘাত করা হলো তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইওয়াশমুলক ব্যাবস্থা গ্রহন করলেন তাকে সাময়িক বহিষ্কার করলেন। কিন্ত ওই মেয়ে কে আবার ক্লাশ, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলে এই বহিষ্কারের মানে হয় না।”

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দুইদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, “এই সপ্তাহের মধ্যে অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের মধ্যে তদন্ত বোর্ড এর রিপোর্ট প্রকাশ করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যদি প্রশাসন বৃহস্পতিবারের মধ্যে তা না করে তাহলে আমরা রবিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ হাজার শিক্ষার্থীকে সাথে নিয়ে ন্যায় বিচারের দাবিতে আমরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করব।”