ঢাকা | শনিবার, ৯ মে ২০২৬,২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

শাপলা চত্বরে গণহত্যার তদন্ত ও বিচারের দাবিতে কুবি কিউসিএসসির বিবৃতি

২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত, বিচার ও পুনর্বাসনের দাবিতে কুরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডি ক্লাব” কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিবৃতি প্রদান করা হয়। মঙ্গলবার (৫ মে ) সংগঠনটি ফেসবুক পেজে এ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, শাপলা চত্বরের সেই ভয়াবহ রাতের একাদশ বর্ষপূর্তিতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে নিহতদের স্মরণ করা হচ্ছে। নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর পরিচালিত ওই অভিযানে অন্তত ৯৩ জন শহীদ হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়; তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়।

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দৃষ্টিতে এটিকে একটি গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ; পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা;
কমান্ড রেসপনসিবিলিটির নীতির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা;
নিহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান ও তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া; আহত ও স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি জীবিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; নিহতদের পরিবারে থাকা এতিম শিশুদের শিক্ষা ও লালন-পালনের দায়িত্ব রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ; মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপরাধ আটক ব্যক্তিদের মুক্তি; এবং শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রামাণ্য ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া প্রকৃত জাতীয় ঐক্য অর্জন সম্ভব নয়। শাপলা চত্বরের শহীদদের রক্তের বিচার না হওয়া পর্যন্ত জাতির বিবেক মুক্ত ও নির্মল হতে পারে না।

সবশেষে, দেশের সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয় আর বিলম্ব নয়, অবিলম্বে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।