কালবৈশাখী ঝড়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে অন্তত ৭৯টি ফলজ ও বনজ গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি গাছ শিকড়সহ উপড়ে গেছে। এতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
গত ২৫ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত দফায় দফায় ঝড়ের প্রভাবে এ ক্ষতি হয়। ঝড়ো হাওয়ার কারণে বড় ও পুরোনো গাছগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, কাঁঠালসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ভেঙে পড়ে আছে। কয়েকটি ফুলগাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুক্তমঞ্চ ও বৈশাখী চত্বরে একাধিক গাছ পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই স্থানে একটি জারুল গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সামনে সড়কেও কিছু গাছ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এ সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঝড়ের পর কিছু সড়ক ও চলাচলের পথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের চলাচলে অসুবিধা হয়। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত গাছ অপসারণ এবং নতুন করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, পরিকল্পিতভাবে দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
বিএনসিসির সাবেক ক্যাডেট সার্জেন্ট শাহিন মিয়া বলেন, “ক্যাম্পাসে ঝড়ের কারণে অনেক গাছ ভেঙে গেছে। তা পুষিয়ে আনতে ও ক্যাম্পাসকে সবুজায়ন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা বিভিন্ন গাছ রোপণ করতে পারবো।”
এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অভয়ারণ্যে’-এর সভাপতি আদনানুল আলম বলেন, “আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে যে গাছগুলো ভেঙে পড়েছে, তা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের সংগঠনের জুন মাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি রয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ করবো।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য হায়দার আলী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতি বছরই গাছ লাগানো হয়। এবছর ঝড়ে ভেঙে যাওয়া গাছগুলোর মধ্যে ৮০ শতাংশ অপসারণ করতে পেরেছি, বাকি ২০ শতাংশ অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে। অপসারণের পর আমরা ভাঙা ডালপালাগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করবো। এরপর আমরা একটি কমিটি গঠন করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করব।”






