ঢাকা | শনিবার, ২ মে ২০২৬,১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

অবশেষে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ অনুমোদন

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক থেকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘এখন রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলেই প্রজ্ঞাপন জারি হবে। শিক্ষার্থীরা খুব খুশি। শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়গুলোও আমলে নেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষকদেরও আর আপত্তি নেই। দীর্ঘদিনের সমস্যার একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান হওয়ায় সার্বিকভাবে দেশের শিক্ষাঙ্গনের জন্য এটি ইতিবাচক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু করা হবে। এক মাসের মধ্যে শ্রেণি কার্যক্রমও শুরু করার পরিকল্পনা আছে। এ ছাড়া অধ্যাদেশ জটিলতার কারণে আগের শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা যতটুকু পিছিয়ে আছেন, তা সর্বোচ্চ চার মাসের মধ্যেই পূরণ করা হবে।’

এর আগে ১৪ ও ১৫ জুলাই অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করলে তীব্র জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার অধ্যাদেশ অনুমোদনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, অধ্যাদেশে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো রাখা হয়েছে। আচার্য হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন, মূল্যায়ন ও নির্দেশনার ক্ষমতা পাবে।

অধ্যাদেশে আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা বিশেষ চাহিদার ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য ছাড়াই দেশি-বিদেশি সব উপযুক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তি ও ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিধানও সংযোজিত হয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও চারুকলাসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের জন্য পৃথক পৃথক স্কুল থাকবে। এসব স্কুলের নেতৃত্ব দেবেন একজন ‘হেড অব স্কুল’। সংযুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন সময়সূচি ও মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে।কলেজগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে পরিচালিত হবে। কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।

মূলত প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কোন মডেলে চলবে, তা নিয়ে মতভেদ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘স্কুল মডেল’ নাকি ‘হাইব্রিড মডেলে’ চলবে—তা নিয়ে শুরু থেকেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান দেখা যায়। পরবর্তীতে অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশের পর তাদের আন্দোলন রাজপথে গড়ায়। পরে উভয় পক্ষের দাবি-দাওয়ার মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে অধ্যাদেশের খসড়া পরিমার্জন করা হয়।

ইতোমধ্যে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচে ৯ হাজার ৩৮৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তবে অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় বিভিন্ন জটিলতায় ঠিক সময়ে তাদের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এ বছরের শুরু থেকে তাদের শ্রেণি কার্যক্রম চালু হলেও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় তারা ইতোমধ্যে কিছুটা পিছিয়ে আছেন।