দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও বেসরকারি স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত ১৪ জানুয়ারি থেকে অনলাইনে নন-এমপিও স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্ত করার আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।এদিকে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে বেশ কিছুদিন ধরে লবিং-তদবির চলছে। তবে এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ অথবা কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে জানতে মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলীর সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হতে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। ২০২৫ সালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত হবে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকেই এমপিও সুবিধা দেওয়া শুরু করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তবে চলতি ধাপে কতটি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে– সে বিষয়ে এখনও কোনো সংখ্যা নির্ধারণ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, কত প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে সে সিদ্ধান্ত সরকারের; আর্থিক সক্ষমতা ও নীতিমালার আলোকে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে।
দীর্ঘদিন পর এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে বেশ কিছুদিন ধরে লবিং-তদবির চলছে। নানা মহলে সুপারিশপত্র জমা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও রাজনৈতিক তদবির বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে ভিড় দেখা যাচ্ছে।
জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, এমপিওভুক্তির মাধ্যমে সরকারি তহবিল থেকে বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই এমপিও তালিকায় নাম তুলতে প্রভাব প্রয়োগের চেষ্টা করে থাকে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নানা জটিলতা তৈরি হয়। এদিকে শিক্ষা প্রশাসন সূত্র বলছে, এবার তালিকা প্রণয়নের আগে নীতিমালার কিছু ধারা সংশোধন এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার চিন্তা চলছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও দেওয়া হয়নি।
দীর্ঘ বিরতির পর সর্বশেষ ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ অক্টোবর নতুন করে আরও ৯১টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। একই বছরের জানুয়ারিতে ২৫৫টি এবং ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে দুই হাজার ৭১৬টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছিল।
শিক্ষা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩৩ হাজার। আর এখনও এমপিওভুক্ত না হওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আট হাজারের বেশি।
নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন অনিশ্চয়তা, চাকরির নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক সংকটের অভিযোগ করে আসছেন। নতুন করে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তারা এটিকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন। মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নতুন আবেদন নেওয়ার পর এমপিওভুক্তির তালিকা দ্রুত প্রস্তুত করার চেষ্টা চলবে। এ সরকারের মেয়াদের মধ্যেই তালিকা প্রস্তুত করে গেজেট জারি করা হবে। তবে তালিকা প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
গত ১৫ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে গ্রেডিং করা হবে। সেই গ্রেডিংয়ের ভিত্তিতে এমপিওভুক্তির জন্য তালিকা প্রণয়ন করা হবে। এ কারণে এমপিওভুক্তির বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা কিংবা আর্থিক লেনদেনে জড়ানোর প্রয়োজন নেই।







