ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬,১১ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ্যে বই খুলে পরীক্ষা দিলেন শিক্ষার্থীরা!

কুমিল্লা সদর দক্ষিণে একটি কামিল মাদরাসায় ফাজিল পরীক্ষায় শিক্ষকের উপস্থিতিতেই প্রকাশ্যে বই-খাতা খুলে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।

একটি ভিডিও সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যাতে বই খুলে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।

২ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পরীক্ষার হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছেই বই। তারা প্রকাশ্যে টেবিলের ওপর বই খুলে প্রশ্নের উত্তর লিখছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিডিওটি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পিপুলিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার। প্রতিষ্ঠানটিতে ফাজিল স্নাতক (অনার্স) প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা চলছে। গত রোববার (২১ ডিসেম্বর) প্রথম ও তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা হয়।

এতে ৪৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন, যারা সবাই ওই মাদরাসারই শিক্ষার্থী। নিজ মাদরাসায় পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়ায় শিক্ষকরাই বই খুলে পরীক্ষার খাতায় লেখার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া পরীক্ষার সময় কোনো পর্যবেক্ষককে ভিডিওতে দেখা যায়নি।

মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিনি কেন্দ্র ফি বাবদ ৫০০ টাকা এবং পরীক্ষায় অসদুপায়ের সুযোগ করে দেওয়া কথা বলে আরও ৬০০ টাকাসহ মোট ১১০০ টাকা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের প্রতিষ্ঠানের। তবে এটি কোনো পরীক্ষার কি না, সেটি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। কে বা কারা ভিডিওটি ছড়িয়েছে, আমি কিছুই জানি না। আমার কাছে মনে হয় এটা শিক্ষার্থীদের কোনো অ্যাসাইনমেন্ট করার ভিডিও হতে পারে।’

আবদুল কুদ্দুস আরও বলেন, ‘আমি কোনো পরীক্ষার্থীকে টাকার বিনিময়ে এভাবে বই দেখে লেখার সুযোগ করে দিয়েছি, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারাই ভিডিওটি ছড়িয়ে আমাদের মাদ্রাসাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মো. তৈয়ব হোসেন বলেন, পরীক্ষায় অসদুপায়ের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে আমরা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেব।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় বলেন, তদন্ত কমিটি করে প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।