ঢাকা | রবিবার, ৭ জুন ২০২৬,২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল বাংলাদেশ

বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো ইউরোপে খেলতে নেমেই পেয়েছে ঐতিহাসিক সাফল্য। জামাল ভূঁইয়ার নেতৃত্বে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা তুলে নিয়েছে অবিস্মরণীয় এক জয়। ফিফা প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোকে হারিয়ে ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। নতুন মার্কিন কোচ টমাস ডুলির অধীনে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ, আর সেই যাত্রা শুরু হলো জয় দিয়েই।

শুক্রবার (৫ জুন) প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোর বিপক্ষে দারুণ এক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে নেমে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে শেষ হাসি হাসে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেন তপু বর্মণ। অন্যদিকে স্বাগতিকদের একমাত্র গোলটি করেন জিওকোপেত্তি।

ম্যাচের ১৬তম মিনিটে প্রথম ফ্রি-কিক পায় বাংলাদেশ। হামজা চৌধুরীর নেয়া শটটি বক্সের সামনে প্রতিহত হলেও বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা।

বক্সের মাথায় জটলার মধ্যে থেকে বলের দখল নিয়ে বাঁ পাশে ফাঁকায় থাকা শেখ মোরসালিনের কাছে পাস দেন এক বাংলাদেশি ফুটবলার। মোরসালিন বক্সে দারুণ একটি ক্রস তুলে দিলে সেই ক্রস থেকে অসাধারণ হেডে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে দেন তপু বর্মণ।

ম্যাচের ৩১তম মিনিটে সমতায় ফেরে স্বাগতিক সান মারিনো। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বাইলাইনের কাছ থেকে বক্সে ক্রস পাঠান স্বাগতিকদের এক খেলোয়াড়। সেই বল ফাঁকায় পেয়ে যান জিওকোপেত্তি। তার নেয়া জোরালো শট জালে জড়িয়ে যায়। গোলরক্ষক মিতুল মারমা ঝাঁপিয়ে পড়লেও বল আটকে রাখতে পারেননি।

ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সহজ সুযোগ পায় বাংলাদেশ। বল নিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েছিলেন সাদ উদ্দিন। পেছনে দুই ডিফেন্ডার থাকলেও সামনে ছিলেন কেবল গোলরক্ষক। কিন্তু সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। তার শট উড়ে গিয়ে পড়ে গ্যালারিতে।

বিরতি থেকে ফিরে প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে বাধা হয়ে দাঁড়ায় গোলবার। ম্যাচের ৫২তম মিনিটে শমিত সোমের পাস থেকে বল পান সাদ। তিনি বক্সে ক্রস বাড়িয়ে দেন। সেই ক্রস ধরে প্রথম টাচেই বল পোস্টের দিকে পাঠান ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। কিন্তু বল ফিরে আসে গোলবারে লেগে।

দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় সান মারিনো। সেখান থেকে সরাসরি গোলের চেষ্টা করেছিলেন বেরালদো। তবে তার নেয়া শট সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়।

ম্যাচের ৬১তম মিনিটে আবারও ফ্রি-কিক থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করে স্বাগতিকরা। বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে নেয়া লোরেঞ্জো লাজ্জারির শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে ঢোকার পথে ছিল। কিন্তু দুর্দান্ত দক্ষতায় সেটি রুখে দেন মিতুল মারমা।

ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে গতির ঝড় তুলে সান মারিনোর দুই খেলোয়াড়কে পেছনে ফেলে বক্সের কাছে পৌঁছে যান বদলি হিসেবে নামা বিশ্বনাথ ঘোষ। সেখান থেকে শটও নিয়েছিলেন তিনি। তবে লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।

ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে সেটপিস থেকে আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। হামজা চৌধুরীর নেয়া ফ্রি-কিক বক্সে পৌঁছায়। প্রথমে তপু বর্মণ পিছলে পড়ে গেলেও বল চলে যায় বিশ্বনাথ ঘোষের কাছে। তিনি জোরালো শট নিলে সেই শটে মাথা ছুঁইয়ে বলের দিক পরিবর্তন করে দ্বিতীয়বারের মতো জালে পাঠান তপু বর্মণ। তাতেই পূর্ণ হয় তার জোড়া গোল।

শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। আর সেই সঙ্গে ইউরোপের মাটিতে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়ে রচনা করে নতুন ইতিহাস।