ঢাকা | বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬,২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

জুলাই গবেষণার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুই বছরেও প্রকাশ হয়নি প্রতিবেদন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে গবেষণা ও ডকুমেন্টারি তৈরির জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের (আইবিএস) পরিচালক অধ্যাপক মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে। প্রায় ছয় লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এবং দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রকাশিত হয়নি ওই গবেষণার প্রতিবেদন।

গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, যথাযথভাবে তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণা না করে পরিচালকের পছন্দ অনুযায়ী গবেষক ও সাংবাদিকদের নিয়ে একপাক্ষিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে গবেষণাটি বাস্তবায়নে মোট কত টাকা বরাদ্দ ছিল, কারা গবেষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন এবং কে কত টাকা পেয়েছেন এসব তথ্য জানতে চাইলে তা দিতে নারাজ অভিযুক্ত অধ্যাপক মোস্তফা কামাল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গবেষনায় যুক্ত একজন অভিযোগ করে বলেন, “ পরিচালক আমাকেসহ গবেষক ১০ জনকে ৩০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। বাকি ৬ লক্ষ টাকা নিজে আত্মসাৎ করেছেন”

তিনি আরো বলেন “আমার কাজ ছিলো কারা জুলাই অন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলো তাদের তালিকা করা, আমি নাম দিয়েছিলাম, কিন্তু আইবিএস পরিচালকের যাদেরকে ভালো লেগেছে তাকেই নিয়েছেন।এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মুলত আন্দোলনে সক্রিয় ছিলো এমন অনেকেরই নাম নেওয়া হয়নাই।”

এদিকে গবেষণা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের তথ্য না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অধ্যাপক মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে। এমনকি এক সাংবাদিককে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংবাদকর্মীরা।

দৈনিক দিনকালের রাবি প্রতিনিধি বলেন, ‘এবিষয়ে আমি তথ্য সংগ্রহের করতে দেখা করার জন্য কল দিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, দেখা করবেন না। পরে মাহিন ভাই আমাকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি বগুড়ার এক ছাত্রদল নেতার কথা বলেন এবং এ বিষয়ে নিউজ করতে নিষেধ করেন।’

গবেষণায় সহকারী ও রাবি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. মাহিন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের স্টেকহোল্ডার হিসেবে আমাকে গবেষণায় সহকারী হিসেবে তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন কাজ করার জন্য ডাকা হয়। এখানে চারজন গবেষক এবং আমিসহ দুজন সাংবাদিক আছি। ভিডিওম্যানসহ আরও অনেকে কাজ করেছেন। কত টাকা, কী অবস্থা—এসব স্যার বলতে পারবেন। আমি সিগনেচার দিয়ে টাকা নিচ্ছি। এখানে যারা ছিলেন, সবাই কাজ করে টাকা নিচ্ছেন। কাকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে, পুরো বিষয়টি স‍্যার বলতে পারবেন, সব কিছুই লেখা আছে।’

তবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আইবিএসের পরিচালক অধ্যাপক মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতি বছর নিজের পাঁচ লাখ টাকা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে দান করি। আমি গবেষণার টাকা মেরে খাব—পাগল হয়েছো? আমার মতো এত সংখ্যক গবেষণা কোনো শিক্ষকের নেই। একজন গবেষক একাই গবেষণার কাজ করলে দোষ কী? আমি সহকারী নেব কি না, সেটা আমার ব্যাপার।’

গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের ড্রাফট কমপ্লিট। ভিডিওটা একটু বাকি আছে। রিভিউ দেওয়া হয়েছে। আমি আরেকবার রিভিউ দিয়ে সেমিনার করব।’

তবে অভিযোগকারী ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যের বিষয়ে অধ্যাপক মোস্তফা কামালের বক্তব্যে অর্থের পরিমাণ, গবেষক ও সংশ্লিষ্টদের পারিশ্রমিক এবং প্রকল্পের মোট বরাদ্দের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে গবেষণাটি দুই বছর ধরে চললেও এখনো তা প্রকাশিত না হওয়ায় এর উদ্দেশ্য, অগ্রগতি, অর্থ ব্যয় ও গবেষণার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে গবেষণায় সংশ্লিষ্ট গবেষক, সাংবাদিক ও অন্যান্য কর্মীদের পারিশ্রমিক এবং প্রকল্পের মোট ব্যয়ের তথ্য প্রকাশের দাবিও উঠেছে।